ইয়েমেনের হুতিদের হামলা বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন অপূর্ণ থাকতে পারে। ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা তুরস্ক বিবেচনা করবে। খবর আল জাজিরার

গত শুক্রবার তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রিয়াদও এই সংঘাতে জড়াতে চায় না। যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সেসব প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ফিদান।
ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে ইয়েমেনে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা, কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তানও। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে বলেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তান যেকোনো মাত্রায়, এমনকি সশরীরেও এগিয়ে আসবে। তবে রিয়াদ পাকিস্তানের কাছে অতিরিক্ত সেনা চেয়েছে কি না, তা তিনি জানাননি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে ওই প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। তবে প্রয়োজন হলে ইসলামাবাদ সময় এলে পদক্ষেপ নেবে।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নামে পরিচিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষর করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পরে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে কর্মকর্তাদের বৈঠকে চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ নির্ধারণ করা হয়। একই বৈঠকে রিয়াদে জোটটির একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। শুরুতে পাকিস্তানের একজন মহাসচিব এই সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেবেন।
চুক্তিটির মূলনীতি হলো— তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিনটি দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। উপসাগরীয় দেশগুলো বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় ত্রিপক্ষীয় এই চুক্তি করা হয়। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে প্রথম হামলা চালানোর পর ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
Source: https://www.bangla.24livenewspaper.com/post-159698








