দিল্লিতে হাজার হাজার আটক, ধ্রুব রাঠি ও তেলাপোকাদের ঠেকাতে পুলিশ তৎপর

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন   বিক্ষোভকারীরা।পাটনা, ভারত, ৮ অক্টোবর
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা।পাটনা, ভারত, ৮ অক্টোবরছবি: রয়টার্স

তেলাপোকাদের ঠেকাতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি আজ শুক্রবার সকাল থেকেই দুর্গে পরিণত হয়েছে। আগামীকাল শনিবার রাজপথের কোথাও কেউ যাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ‘জ্ঞানেশ হটাও’ অভিযানে নামতে না পারেন, সে জন্য পুলিশ ও প্রশাসন তৎপর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকেদের সগর্ব ঘোষণা, ১০ অক্টোবরের ‘যন্তর মন্তর ২.০’–তে অংশ নেবেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। আন্দোলনের শরিক হতে ভারতে এসে ধ্রুব নিজেও বলেছেন, ‘এটা গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই। ৮ তারিখ আমি বেঙ্গালুরুতে থাকছি, ১০ তারিখে কেউ দিল্লি আসতে ভুলবেন না।’

ধ্রুবর পাশে থাকা দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ জানাতে ভোলেননি, ‘আলি রে আলি, জ্ঞানু, সময় শেষ; এবার তোমার যাওয়ার পালা।’ কিন্তু তবু সংশয় কাটছে না। সবার একটাই প্রশ্ন, অভিজিৎ দিপকেসহ সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে ধ্রুব রাঠিদের দিল্লি পুলিশ আদৌ কি শনিবার দিল্লির রাজপথে নামতে দেবে? তার আগেই কি তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে?

সংশয় ও সন্দেহ নিছক অমূলক নয়। কারণ, বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লি আসা ঠেকাতে হাজার হাজার জেন–জিকে আটক করা হয়েছে। বিজেপি–শাসিত রাজ্যগুলোয় পুলিশ ইতিমধ্যেই ১০ হাজার সিজেপি কর্মী ও সমর্থককে আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা। গতকাল বৃহস্পতিবার এক্সে তিনি লিখেছেন, আটক করা হয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সিজেপি সমর্থকদের। পুনে থেকে একদল ছাত্রকে আটক করে বাসে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়ে রাঙ্কা লিখেছেন, তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, কেউ জানে না। রয়টার্স লিখেছে, নানা জায়গা থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীদের আটক করে ভ্যানে করে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, কেন তাঁদের আটক করা হচ্ছে, এ বিষয়ে পুলিশ কিছুই জানাচ্ছে না।

তেলাপোকারা যদিও ভীত নন; ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে আজ শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমরা যন্তর মন্তর অভিযান করবই, যা হয় হোক।’ সেই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি আমাদের জেলে ঢোকান বা গুলি করুন, আমরা প্রস্তুত। আপনার মানসিক বিকারগ্রস্ত আচরণে আমরা পেছু হটব না।’ ওই বার্তায় দিপকে জানান, তাঁদের অন্যতম মুখপাত্র দীপক বালিয়ান ও তাঁর ভাইকে রাজস্থান পুলিশ প্রচণ্ড মারধর করেছে। তাঁদের আটকে রেখেছে।

রাজ্যে রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের এ তৎপরতার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত, জেন–জির প্রস্তাবিত আন্দোলনে কেন্দ্রীয় সরকার ভীত। শনিবারের ‘যন্তর মন্তর ২.০’ অভিযান ব্যর্থ করতে পুলিশ তাই চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছে না। দিল্লি পুলিশের ২০ হাজার কর্মী ছাড়াও তৈরি রাখা হয়েছে আধা সামরিক বাহিনীর ২৩ হাজার সদস্য। পাঁচ কোম্পানি সশস্ত্র নারী পুলিশকেও আনা হয়েছে। জম্মু–কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড় থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে সিআরপিএফ জওয়ানদের।

দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকে কয়েক শ বাস রাজধানীতে আনা হয়েছে, যাতে বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া যায়। আন্দোলনকারীদের আটকে রাখার জন্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ১০টি স্টেডিয়াম চিহ্নিত করা হয়েছে। বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম, ছত্রসাল স্টেডিয়াম ছাড়াও তৈরি রাখা হয়েছে নারেলা, পূর্ব ও পশ্চিম দিল্লির একাধিক স্টেডিয়াম। প্রয়োজনে সেখানে একাধিক দিন আটক রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

শুক্র ও শনিবার দিল্লির বাইরে থেকে জেন–জিরা যাতে আসতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে শনিবার ভোর ৪টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ১০ ঘণ্টা সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নয়াদিল্লি, পুরোনো দিল্লি ও নিজামউদ্দিন স্টেশন থেকে ওই সময় কোনো ট্রেন ছাড়বে না। আসবেও না।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের কিছু বিধিনিষেধ ছিল। ফলে পাঁচ হাজার যাত্রী ট্রেনে চড়তে পারেননি। প্রতিটি স্টেশনে বিশেষ পুলিশি নজরদারিরও বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এসব স্টেশনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বহু ট্রেনের আসা–যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো, সিজেপির ডাকে আশপাশের জেলা থেকে কেউ যাতে না আসতে পারেন। একই রকমের তৎপরতা রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানার সঙ্গে দিল্লির সীমান্ত এলাকাগুলোতেও।

পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কৃষকনেতারা সিজেপির আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, আন্দোলনে তাঁরাও যোগ দেবেন। কৃষকদের ঠেকাতে পুলিশ তৎপর।

ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলনে সময় কয়েক দিন ধরেই লুটেন্স দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। সিজেপি আন্দোলনের সময়েও তেমন করা হয়েছিল। আগামীকাল সকাল থেকে তেমনই করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে ওই তল্লাটের কাছাকাছি ১০টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। আজ রাত নয়টার পর থেকে আগামীকাল পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মোট ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে অ্যাপ নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার গাড়ির। উদ্দেশ্য, দিল্লির অন্যান্য এলাকা থেকে তেলাপোকারা যাতে লুটেন্স দিল্লিতে আসতে না পারেন।

Source: https://www.prothomalo.com/world/india/q2qv437lgr

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here