জাতীয় পার্টির বেহাল দশার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা জিএম কাদের। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ইচ্ছাকৃত বা ভুল করে দলের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। যার কারণে জাতীয় পার্টির অনেক ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে রওশন এরশাদপন্থি অন্তর্বর্তীকালীন মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন- জিএম কাদের ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুকে। তিনি বলেছেন, ঘর টু সংসদ, এর বাইরে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে প্রতিহত করা হবে।
গতকাল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান জিএম কাদের সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নির্বাচিত হওয়ায় জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় জিএম কাদের বলেন, আমাদের দল ভাগ হয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নাই। তবে এরশাদের আদর্শ নিয়ে নতুন করে দল গঠন হতেই পারে। আমাদের দলের বিষয়ে পারসেপশন কিন্তু ভালো নয়। অনেকেই অনেক কথা বলেন। আমরা লড়াই করে সংসদে গিয়েছি।
অনেকে বলেন- আমরা পরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আমিও বলবো দলের মধ্যে ব্যাপকভাবে সংশোধন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তারা ছড়িয়ে দিয়েছে আমরা ২৬টি সিট ছেড়ে দিলাম জাতীয় পার্টির ফেভারে। তারা একটা সিটও ছাড়ে নাই। তারা সব জায়গায় তাদের লোক দিয়ে রেখেছে। অনেক জায়গায় আমাদের লোক হেরেছে। আমাদের অনেক প্রার্থীও বিভ্রান্ত হয়েছেন। এটা আওয়ামী লীগ ইচ্ছাকৃত বা ভুল করে করেছে। এটার কারণে আমাদের দলের অনেক ক্ষতি করেছে। আমরা ৩০০ আসনে সরাসরি লড়াই করেছি। এই বিভ্রান্তিটা না থাকলে আরও ফল ভালো হতো। আমার দলের অনেক সদস্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত বলেছে। এটা দিয়ে আরও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
জিএম কাদের বলেন, সবাইকে এক লাইনে থাকতে হবে। না হলে দল নিয়ে টিকে থাকা যাবে না। দলকে বাঁচাতে চাইলে কু-মনোবৃত্তি দূর করতে হবে। জনগণ সত্যিকার অর্থে বিকল্প খুঁজছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র বাইরে দল চায়। সত্যিকার পরিবর্তন চায়। আমরা যদি পরনিয়ন্ত্রিত হওয়া থেকে বের হতে পারি তাহলে মানুষের সমর্থন বাড়বে।
মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, যে যতোই গালি দিক গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এখন বিরোধীদলীয় নেতা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট করার কারণে অনেকেই জাপাকে গৃহপালিত বিরোধী দল বলে। রাজনীতি করতে গেলে সবার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা লাগে। জাপা কখনও কারও পার্পাস সার্ভ করে নাই। আমরা সব সময় সরকারের সমালোচনা করেছি।
ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তৈয়বুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সুলতান আহমেদ সেলিমের পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. আনিসুল ইসলাম মণ্ডল, ভাইস-চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি, যুগ্ম মহাসচিব মো. সামছুল হক, মো. বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন সরকার, মো. হুমায়ুন খান প্রমুখ।
এদিকে একই দিনে একই সময়ে মোহাম্মদপুর টাউন হলে রওশনপন্থিদের জাতীয় ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদের মৃত্যুর পর যিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তার ব্যর্থতার কারণে পার্টি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক মহাসচিব দলটির ভরাডুবি ঘটিয়েছেন। এই বিপর্যয়ের হাত থেকে দলকে রক্ষা করতেই রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ছাত্র সমাজের সহ-সভাপতি নকিবুল হাসান নিলয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি আরও বলেন, এরশাদের রেখে যাওয়া আমানত খেয়ানত করেছেন জিএম কাদের এবং চুন্নু। তারা মোনাফেক, মিথ্যাবাদী এবং ওয়াদা বরখেলাপকারী। পার্টির সবার সর্বসম্মতিক্রমে রওশন এরশাদ এই মোনাফেকদের দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। বেইমানদের স্থান জাতীয় পার্টিতে নেই। জিএম কাদের নিজ স্বার্থে দলের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়েছেন। শুধুমাত্র তার স্ত্রীকে এমপি করার জন্য দেশের লাখো নেতাকর্মীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। স্বঘোষিত জনবন্ধু জিএম কাদের দেশবাসীর কাছে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
জিএম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নুকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদে যান। জাতীয় পার্টি নিয়ে ভাবতে হবে না। ঘর টু সংসদ, এর বাইরে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে প্রতিহত করা হবে।
সভায় এরশাদপুত্র দলটির যুগ্ম মহাসচিব রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ বলেন, আপনাদের ঘাড়ে সবার লাঙ্গল। আপনারা লাঙ্গল নিয়ে মাঠে নেমে পড়ুন। আমি আছি আপনাদের সঙ্গে। প্রতিনিধি সম্মেলনে নকিবুল হাসান নিলয়কে আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম রেজাউল ইসলাম হাসিব, মৃধা মো. মিরাজুল ইসলাম রাজ, এরফান আহমেদ এবং আবু সাঈদ লিওনকে সদস্য সচিব করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন, সাবেক প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা রফিকুল হক হাফিজ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহিয়া চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহাজাদা প্রমুখ।
manabzamin








