হাসিনাকে ফেরতের প্রশ্ন ‘রাজনৈতিক বিষয়’ বলে এড়িয়ে গেলেন দীনেশ ত্রিবেদী

হাসিনাকে ফেরতের প্রশ্ন ‘রাজনৈতিক বিষয়’ বলে এড়িয়ে গেলেন দীনেশ ত্রিবেদী

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রশ্নটিকে রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো পলিটিক্যাল বিষয়ে এখানে কথা বলতে চাই না।’

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে আমার দেশ-এর করা প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে আমার দেশ প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন, যে মন্ত্রণালয়ে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, সেই মন্ত্রণালয় একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়িত্বেও রয়েছে। জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী, তা তিনি জানাবেন কি না।

জবাবে হাইকমিশনার বলেন, দেখুন আমি কোনো পলিটিক্যাল বিষয়ে এখানে কথা বলতে চাই না।মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় নিয়ে প্রশংসা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি জানান, মন্ত্রী তাকে বলেছেন, এখানে যে কেউ কোনো পূর্বানুমতি বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন।

সাক্ষাতের মূল আলোচ্য বিষয় নিয়ে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বৈঠকের বিষয়ে বলেছেন, এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আমরা বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন পারস্পরিক বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। এর বাইরে অন্য কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা শুধুমাত্র একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি, একে অপরকে ধন্যবাদ জানিয়েছি এবং আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করব—একমাত্র এটাই আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো আলোচনা হয়নি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের মাস বা কোনো তারিখ এখনো ঠিক হয়নি, তবে অতিদ্রুতই এই সফর হবে বলে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন হাইকমিশনার।

তিনি বলেন, তারিখ বা মাস নিয়ে আমাদের বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট কথা হয়নি। আমার ব্যক্তিগত চাওয়া হলে আমি বলব কালকেই বৈঠকটি হোক, নভেম্বরের জন্য কেন অপেক্ষা করব? তবে বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা মাস ফিক্সড হয়নি। কিন্তু উভয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি একই সূত্রে গাঁথা। তাদের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের কল্যাণ। এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। দিনশেষে দুই দেশের জন্যই ফলাফল খুব ভালো হবে। দুই দেশের সার্বভৌম ও স্বাধীন শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের সুবিধাজনক সময়ে বৈঠকে বসবেন। দুই দেশের প্রতিনিধিরা বসলে সব সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনীতিই সব নয়, পানিসম্পদ, বাণিজ্য, ক্রিকেট, ফুটবল, সাহিত্য, কবিতা, থিয়েটার, সিনেমা, সংগীত—সবক্ষেত্রেই সুসম্পর্ক বজায় থাকা দরকার। আমি নিজে সাংস্কৃতিক জগতের মানুষ, তাই আমি চাই কালচারাল আদান-প্রদান আরও বৃদ্ধি পাক। এটি একতরফা নির্ভরতা নয়, এটি হলো পারস্পরিক নির্ভরতা। লালন ফকির, কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সত্যিই অনন্য।

Amardesh 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here