বিএনপি নেতার কাছে যুবদল নেতার চাঁদা দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ

Amar Desh

স্টাফ রিপোর্টার

বিএনপি নেতার কাছে যুবদল নেতার চাঁদা দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ
যুবদল নেতা কামাল আহমেদ। ফাইল ছবি

সিলেটের বিয়ানীবাজারে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এক নেতার কাছে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা কামাল আহমেদ ওরফে চাক্কু কামালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কেন্দ্রীয় যুবদলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মঈন উদ্দিন।

অভিযোগকারী মঈন উদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স শাখা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। তিনি দাবি করেন, বিয়ানীবাজার পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং বিভিন্ন সময়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করেছেন।

মঈন উদ্দিন বলেন, ‘সর্বশেষ তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাক্কু কামাল অনুসারীদের নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। শুধু তাই নয়, স্থানীয় বাজারে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীরও ভাঙচুর করা হয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনাও করা হয়। এ অবস্থায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলা করার পরও তিনি রেহাই পাননি, বরং তার ওপর আরও একাধিকবার হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, ক্রমাগত হুমকি ও হামলার কারণে বর্তমানে তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন চাক্কু কামাল। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীও তার কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।

এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চাক্কু কামালের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিয়ানীবাজার পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে সিলেট জেলা যুবদলের কাছে লিখিত সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে তিনি চাঁদাবাজি, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। একই সঙ্গে পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এতসব সুপারিশ ও অভিযোগের পরও জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিয়ানীবাজার পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন আহমদ দুলন বলেন, ‘কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ এসেছে। আমরা তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে জেলা যুবদলের কাছে চিঠি দিয়েছি। জেলা কমিটি বিষয়টি কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। এরপর কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’

অন্যদিকে সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, ‘গত বছর কামাল আহমেদকে বহিষ্কারের জন্য যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি মঈন উদ্দিন নামে একজনের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ পেয়েছি। তাকে মামলার কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে কামাল আহমেদ আমার দেশকে বলেন, ‘মহিউদ্দিন আমার বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি যদি চাঁদাবাজির কোনো প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে আমার দল ও প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

Source: https://www.dailyamardesh.com/politics/bnp/amd7lfisws51g

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here