নুরের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জামায়াতের

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৭: ৪৩
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৭: ৪৩

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার জোহরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সহ নেতাদের ওপর যে হামলা করা হয়েছে তা সুষ্পষ্ট পরিকল্পিত হামলা।

ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে টার্গেট করে এই হামলা করা হয়েছে। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর অফিসাররা অতিউৎসাহী হয়ে হামলা চালিয়ে শুধু তাদের নিরপেক্ষতা হারায়নি, সরকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে তদন্তপূর্বক হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর এধরণের হামলার ঘটনা প্রত্যাশিত ছিল না। তিনি বলেন, গণহত্যাকারী ও তাদের দোসররা একই অপরাধে অপরাধী। গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদীরা যেখানে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে তাদের দোসররা কেন রক্ষা পাবে।

অনেক রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টদের দেশ থেকে তাড়িয়েছে, সেই স্বৈরাচারদের পুনর্বাসন জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বর্তমান সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, ফ্যাসিবাদীদের যে পরিণতি হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন হলে সরকারকে একই পরিণতি হবে।

এসময় তিনি, জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যেই পদ্ধতির নির্বাচনে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও জনগণের সরকার গঠিত হয়নি, সেই পদ্ধতি জনগণ আর চায় না। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের তৈরি আইনে নির্বাচন হলে আবারো ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটবে। এজন্য জনগণ প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তন, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায়। সরকার যদি জনগণের ইচ্ছের বিরুদ্ধে যায় তবে জনগণ দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জুলাই যোদ্ধার উওর হামলা হলে জনগণ বসে থাকবে না৷ একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের উপর রাষ্ট্রীয় বাহিনী হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচন হয়েছে। যারা এই ঘৃণ্য বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে ড. আব্দুল মান্নান ও মো. শামসুর রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here