মির্জা ফখরুলই বিএনপির প্রার্থী, তবে আগাম ঘোষণা করবে না দল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরছবি: মির্জা ফখরুলের ফেসবুক পেজ

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী কে, তা জানা যাবে শেষ মুহূর্তে। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তবে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র।

বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেছেন, যেহেতু দলের স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে, সে জন্য দল কোনো আগাম ঘোষণা দেবে না। ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় জানা যাবে, প্রার্থী কে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।

এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য বিএনপির সাবেক নেতা, বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দিক থেকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা গেছে। দুই দিন আগে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে যে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা একটি লিখিত সম্মতি বিবৃতি দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, গত শনিবার ওই বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল সই করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।

ইতিমধ্যে ইসি থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তিনি বৈধ প্রার্থী বলে বিবেচিত হন।

সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও তাঁর দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। এর পর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংসদের বৈঠক আহ্বান

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। গতকাল ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমদের সই করা এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে। এ নির্বাচনে ভোটার সংসদ সদস্যরা। তাঁদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে বলা আছে, সংসদ অধিবেশনের বাইরে অন্য কোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন হলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের দিন ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন। ভোট গ্রহণের দিনে সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করা হবে। এ বৈঠক আহ্বান করেন সিইসি। ওই বৈঠকে সভাপতিত্বও করবেন তিনি।

প্রস্তুতিমূলক বৈঠক

গতকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। এতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপদের মধ্যে জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।

সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, যাবতীয় দরকারি সহায়তা এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে আলোচনা হয়েছে।

দলের বাইরে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল

গতকালের বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বাইরের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর আছে। ফলে কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।

চিফ হুইপ বলেন, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার যখন ভোট দেবেন, তখন সেটি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন। তারপরও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, তাঁরা এটাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চান না। সে জন্য তাঁরা প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।

Source: https://www.prothomalo.com/politics/p5p0xp1gyp

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here