
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান রানার ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত তা নথিভুক্ত করা হয়নি। তাহলে প্রশাসন কার পক্ষে? দুষ্টের পক্ষে, না শিষ্টের পক্ষে? এ প্রশ্ন সঙ্গত কারণেই দাঁড়াবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান রানাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে কোনো কথা নেই, বার্তা নেই, তার ওপর হামলে পড়ে এবং তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। বুকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয় হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। উপজেলা হাসপাতালের অবস্থা আমাদের সবার জানা। তারা পুরো চিকিৎসাটা দেয়নি। প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর গভীর রাতে তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়।
তিনি বলেন, কেন এই ঘটনা? তিনি তো বসা ছিলেন। কারও সঙ্গে কোনো বাদ-বিসংবাদ নেই। তিনি একটা লম্বা সময় দেশের বাইরে ছিলেন। কাতারে অবস্থান করতেন। তার স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। তারা দুজনই সেখানে চাকরি করতেন। দেশে ফিরে এসেছেন ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার স্বার্থে। তাকে জিজ্ঞেস করেছি, তার কোনো দুশমন ছিল কি না। তিনি বলেছেন, তার কোনো দুশমন নেই।
‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দুইবারের সাবেক একজন সংসদ সদস্য, সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আহত হওয়ার পর কটিয়াদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের জানা অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়নি। তাহলে প্রশাসন কার পক্ষে? দুষ্টের পক্ষে, না শিষ্টের পক্ষে? এ প্রশ্ন সংগত কারণেই দাঁড়াবে। মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কারণেও যদি এ ঘটনা হয়ে থাকে, এটাও তো প্রশাসনের দায়িত্ব, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা। মামলা কেন, কোন রহস্যজনক কারণে এখনো নথিভুক্ত করা হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান সাহেব বলেছেন, এ বিষয়ে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন। এমনকি রেঞ্জ ডিআইজির সঙ্গেও কথা বলেছেন। আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, সবাই বলছেন হয়ে যাবে। কিন্তু হচ্ছে না কেন? এটা এমন কোনো বিষয় নয় যে রেকর্ড করা যাবে না। তিনি তো কারও বিরুদ্ধে মার্ডার মামলা দায়ের করেননি। কোনো অসত্য তথ্য দিয়ে কাউকে ফাঁসাতে চাননি। সঠিক বিষয়টি তুলে ধরে সেখানে অভিযোগ করেছেন।
তারা (আসামি) কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী না হলেও এখন রাজনৈতিক দলের কাছে আশ্রয় পাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সময়ে কার কাছে আশ্রয় পেতে পারে, এটা তো বুঝতেই পারছেন। আমার এটা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। তার সঙ্গীরা তাদের চিনেছেন। সে জন্য তাদের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় কিছু দুষ্কৃতিকারী হামলা করেছে, এমন অভিযোগ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ ফাংশন করছে না। মাদকচক্রের বিরুদ্ধে মামলা নিচ্ছে না। একদিকে ভয়ে মামলা নেয় না, আরেকদিকে পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলে। ওসি সাহেবের নির্দেশনায় মামলা দিতে হবে, এটা আরেকটি ন্যক্কারজনক কাজ। মামলায় যদি কারও নাম অন্যায়ভাবে এসে থাকে, সেটাও তদন্ত করে বের করুক। অসুবিধা কী? আর না হয়, তিনি বলার কে যে এই নাম কেটে দেন? এটা তো তিনি বলতে পারেন না। এটা অন্যায়, আইনের ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ। আইনের মানুষ হয়ে আইনের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।
Source: https://www.dhakapost.com/politics/495704








