Amardesh

নেতৃত্বে গিয়ে ভুল করলে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, নেতৃত্বে গেলেই আমি ভুলপথে চলে যাব। আর এই ভুল যেই ক্ষমা করুক, বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করবে না।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
মঈন খান বলেন, একাত্তর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নেতারা অনেক ভুল করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ মানষ কখনো ভুল করেনি। আমরা যখন ভুল করে গণতন্ত্রের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছি অথবা অতি ক্ষমতাবান ও অতি শক্তিশালী হয়েছি -তখন বাংলাদেশের জনগণ জীবন দিয়ে তাদের সে ভুল সংশোধন করে দিয়েছে। ঠিক একইভাবে চব্বিশের ৫ আগস্ট আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করে এই ছাত্র-জনতা আবার নতুন করে গণতন্ত্র উদ্ধার করেছে। বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু প্রতিবাদি মানুষ। তারা স্টাবলিশমেন্টের এন্টি। এই সত্য উপলব্ধি করে আমাদের সঠিক পথে থাকতে হবে। নেতৃত্বে গেলেই আমি ভুলপথে চলে যাব। এই ভুল যেই ক্ষমা করুক, বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করবে না।
তিনি আরো বলেন, এখানে জুলাই যোদ্ধারা রয়েছে। আমরা জুলাই যোদ্ধা হতে পারিনি। কিন্তু এটুকু বলতে পারি জুলাই যোদ্ধার যে আদর্শ ও সংগ্রাম, আমরা সেটি বুকে ধারণ করেছি। ফুটবলে যেরকম ১১ জন খেললেও সবাই গোল করতে পারে না। আনন্দ ও গর্বের সাথে বলি, আজকের যারা এনসিপি ও জুলাই যোদ্ধা তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে। আমরাও করেছি। তেমনি আমরাও সংগ্রাম ও প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু তারা অর্জন করতে পেরেছে। আমরা তাদের অর্জনে গর্ববোধ করেছি। তাদের অর্জনের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচন হয়েছে। মূল সংগ্রাম ও প্রতিবাদ হয়েছে গণতন্ত্রের জন্যই।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, আমরা একসাথে থেকে যে লড়াই করেছি সে লড়াইয়ের ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। লড়াইয়ের ফলে আজকে যারা সরকারে ও বিরোধী দলে আছেন -সবারই স্টেক রয়েছে, অংশগ্রহণ রয়েছে এবং ত্যাগ রয়েছে। ফলে আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা সরকারকে বারবার বলেছি, আমরা হয়তো এপার – ওপার থাকব, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলব। দেশের বিভিন্ন পলিসি নিয়ে আপনাদের সাথে আমাদের মতানৈক্য হবে না। সমালোচনা করব। কিন্তু কিছু বিষয়ে আমাদের ন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং প্রয়োজন। একটা হচ্ছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ -তাদের ব্যাপারে আমাদের সবাইকে এক থাকতে হবে। আরেকটা হচ্ছে আধিপত্যবাদ -যা আমাদের দেশের জন্মের পর থেকে জাতীয় চ্যালেঞ্জ। এবিষয়ে আমাদের সব সময় এক পাশে এক কাতারে থাকতে হবে।
সরকারকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ে যারা শহিদ হয়েছেন তারা একটি সুন্দর ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছেন। আমরা যদি তাদের আত্মদানের কথা ভুলে যাই তাহলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে আর কখনো বিশ্বাস করে রাস্তায় নেমে আসবে না। আর কখনো তাদের সন্তানদের জীবন দেওার জন্য ঠেলে দিবে না। আশাকরি এবিপার্টি ও এনসিপি একসাথে থেকে মানুষের কথা বলবে ও মানুষের জন্য লড়বে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তরুণ প্রজন্মের বুকে বাসা বেধেছে -তাই জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। এখন আমাদের কাজ হলো জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে আগামী দিনে বাস্তবায়ন করা। আমরা সংবিধানে একটা সংস্কার চাই। সংশোধনী দিয়ে আমাদের সেই সংস্কারের চাহিদা পূরণ হবে না। আমরা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ফ্যাসিবাদ রোধে ক্ষমতার ভারসাম্য চাই। আমরা রাষ্ট্র-প্রশাসনের সব স্থানে দলীয়করণমুক্ত ব্যবস্থাপনা চাই। আমরা বাংলাদেশে সবসময় নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাপনা চাই। আমাদের এই চারটা নিশ্চয়তা দেন। আর বিএনপি বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকেন। আমরা সহযোগিতা করব। যদি এগুলোতে সমস্যা হয়, তাহলে আগামীতে আমরাতো একসাথে চলতে পারবো না। আমরা চাই আগামী বাংলাদেশে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী অপশক্তি ও বিদেশি আধিপত্যবাদের দোসর তারা যেন আবার বাংলাদেশে পুরাতন বাঁ নতুন কোন রুপেই ফিরে আসতে না পারে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন যেন বাস্তবায়ন হয়।
শহীদ নাফিসা হোসেন মারওয়ার পিতা আবুল হোসেন, আমরা বিধ্বস্ত। চব্বিশের আন্দোলনে যত জন শহীদ হয়েছেন এর মধ্যে মাত্র দশ জন নারী শহীদ। এই নারীদের নিয়ে সংসদে কথা বলে না কেউ। কোথাও তাদের অবদানের কথা বলা হয় না। অথচ তারা সামনের কাতারে ছিল। আপনারা এই নারী শহীদদের পরিবারের প্রতি খেয়াল রাখবেন।
এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সরকার দলীয় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিএনপির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপন, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, এবি পার্টির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপির) সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চান, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির চেয়ারম্যান জেবেলুর রহমান গনি, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের প্রমুখ।
Source: https://www.dailyamardesh.com/politics/amd6t96xuelgs








