নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের ঐতিহাসিক প্রথম শিরোপা জয়

24 Live Newspaper

পুরুষদের ক্রিকেটে কপিল দেবের ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয় যেমন ইতিহাস বদলে দিয়েছিল, তেমনই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল হারমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতের নারী ক্রিকেট দল। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল তারা। নাভি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানের ব্যবধানে পরাজিত করে এই গৌরব অর্জন করে ভারত।

ভারতের পতাকা

বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯৮ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তারা, যা নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ভারতের এই বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন ওপেনার শেফালি বর্মা। ৭৮ বলে ৮৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। স্মৃতি মান্ধানার (৪৫) সঙ্গে তার ১০৪ রানের উদ্বোধনী জুটি দলকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়। পরবর্তীতে, দীপ্তি শর্মার ৬০ বলে ৫৮ এবং শেষদিকে রিচা ঘোষের ২৪ বলে ৩৪ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভারত তিনশোর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আয়াবোঙ্গা খাকা তিনটি উইকেট নেন।

২৯৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাও ভালো শুরু করেছিল। অধিনায়ক লরা উলভার্ট একাই দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। সেমিফাইনালের পর ফাইনালেও সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৯৮ বলে ১০১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। তবে অন্য প্রান্ত থেকে তেমন সমর্থন পাননি। সুনে লুস ২৫ এবং এনেইরি ডার্কসেন ৩৫ রান করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। দলীয় ২২০ রানের মাথায় উলভার্ট আউট হওয়ার পরেই প্রোটিয়াদের ইনিংস তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৪৫.৩ ওভারে ২৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।

এই ম্যাচে ভারতের জয়ের নায়ক ছিলেন একাধিক। ব্যাট হাতে ৮৭ রানের পর বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন শেফালি বর্মা। অথচ, চোটের কারণে বাদ পড়া এক খেলোয়াড়ের বদলি হিসেবে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উজ্জ্বল ছিলেন দীপ্তি শর্মা। ব্যাট হাতে ৫৮ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেন তিনি। এই টুর্নামেন্টে ২০০-র বেশি রান এবং ১৫টির বেশি উইকেট নিয়ে অনন্য এক কীর্তিও গড়েন দীপ্তি।

যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা হেরেছে, অধিনায়ক লরা উলভার্ট ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ভাস্বর ছিলেন। এক আসরে সর্বোচ্চ ৫৭১ রান এবং সেমিফাইনাল ও ফাইনাল উভয় ম্যাচেই সেঞ্চুরি করার মতো বিরল রেকর্ড গড়েন তিনি। তবে তার এই লড়াই দলের হার এড়াতে পারেনি। এর আগে দুবার রানার্সআপ হওয়া ভারত অবশেষে শিরোপার স্বাদ পেল। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠলেও আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ হলো দক্ষিণ আফ্রিকার, যা তাদের ‘চোকার্স’ তকমাটিকেই যেন মনে করিয়ে দিল।