
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলা, শারীরিকভাবে হেনস্তা, পানির বোতল নিক্ষেপ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, একজন নারী শিল্পী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিদেশে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনা শুধু নিন্দনীয় নয়, এটি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়ংকর বহিঃপ্রকাশ।
মঞ্জু ও ফুয়াদ বলেন, দেশে ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন, হামলা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের যে সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল, ভেনিসের ঘটনা তারই আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ। দেশ ছাড়লেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী মানসিকতা তাদের ছাড়েনি। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে একজন নাগরিক ও তার পরিবারের ওপর বিদেশের মাটিতে হামলা কোনো সভ্য সমাজেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের চরিত্র হারিয়ে সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতির রাজনীতির প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। বিদেশের মাটিতে একজন স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পীর ওপর হামলার ঘটনা তাদের সেই সহিংস ও অসহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়াবহতাই প্রকাশ করে।
এবি পার্টির নেতারা বলেন, ইতালিতে বসবাসরত কিংবা সফররত কোনো বাংলাদেশি রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে অন্যের ওপর হামলা, হুমকি বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করলে তার পরিচয় যা-ই হোক, সে একজন সন্ত্রাসী। ভেনিসের ঘটনাটি ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত করে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন বিদেশের মাটিতেও তাদের সেই সন্ত্রাসী আচরণকে বাংলাদেশি প্রবাসীসহ বিশ্ববাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তির মর্যাদা ও পরিবারের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যে-কোনো হামলার বিরুদ্ধে এবি পার্টি সোচ্চার থাকবে।
বিবৃতিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তারা বলেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা যত বড় সন্ত্রাসীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এগিয়ে এসে বাঁধন ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
Source: https://www.dhakapost.com/politics/481186








