- ২৪ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন ভাগাভাগির আলোচনায় বসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে এই সমঝোতা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট গড়ার বিরোধিতা করে ইতিমধ্যেই দলটির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা পদত্যাগ করেছেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক গত বৃহস্পতিবার দল ছাড়ার ঘোষণা দেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এনসিপির পক্ষ থেকে জামায়াতের কাছে অন্তত ৫০টি আসনে ছাড় চাওয়া হয়েছে। যদিও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, দর-কষাকষির মাধ্যমে ৩০টি আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে এবং শুক্রবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে জামায়াত সূত্রমতে, এনসিপির চাওয়া ৫০টি আসনের দাবিটি তাদের কাছে অতিরিক্ত মনে হচ্ছে।
এদিকে জামায়াত ও বিএনপির সঙ্গে এনসিপির এই ঘনিষ্ঠতা নতুন গঠিত একটি রাজনৈতিক জোটে ভাঙনের সুর তুলেছে। গত ৭ ডিসেম্বর এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ গঠন করেছিল। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তৃতীয় শক্তি হিসেবে জোটটি দাঁড় করানোর কথা থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সেই বোঝাপড়া লঙ্ঘন করা হয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানা যায়, নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা বড় দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ ও বাস্তবতা বিবেচনা করে তারা মনে করছেন, বিএনপি বা জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বৈতরণী পার হওয়া কঠিন। এ কারণেই জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গেও যোগাযোগের পথ খোলা রাখা হয়েছে।
ইতিপূর্বে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে এনসিপির আলোচনা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তবে দলটির শীর্ষ নেতারা আশা করছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হলে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে নতুন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কতটি আসনে সমঝোতা হবে বা আদৌ হবে কি না, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।









