হামজা: ১৮ কোটি মানুষকে খুশি করেছি, এটাই সেরা সাফল্য

24 Live Newspaper

আন্তর্জাতিক ম্যাচ শেষে সাধারণত সংবাদ সম্মেলন শুরু হতে ১০-১৫ মিনিট সময় লাগলেও ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রায় আধঘণ্টা পেরিয়ে যায়। খেলোয়াড়দের বাঁধভাঙা উদযাপনের কারণেই এই বিলম্ব। ২২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রতিবেশী দেশটিকে হারানোর আনন্দ যে সহজে থামার নয়।

হামজা চৌধুরী

প্রথমে ভারতের কোচ খালিদ জামিল সংবাদ সম্মেলনে আসেন। তার পর্ব শেষ হতেই মিডিয়া কক্ষে প্রবেশ করেন বাংলাদেশের নায়ক হামজা চৌধুরী। হাসিমুখে প্রথমবারের মতো ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি দলের দীর্ঘ ২৩ দিনের ক্যাম্প ও খেলোয়াড়দের ত্যাগের কথা তুলে ধরেন।

হামজা চৌধুরী বলেন, ‘আমি ক্যাম্পে যোগ দিয়েছি শেষে। কিন্তু কোচ, কোচিং স্টাফ আর খেলোয়াড়রা প্রায় ২৩ দিন, অর্থাৎ ৫০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পরিবার থেকে দূরে হোটেলে থেকে দেশের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আজ তার ফল মিলেছে।’

ইংল্যান্ডের ক্লাব লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ জয়ের মতো বড় সাফল্য রয়েছে হামজার ঝুলিতে। তবে ভারতের বিপক্ষে এই জয়কে তিনি ভিন্ন মাত্রায় স্থাপন করেছেন। তিনি জানান, ‘ভিন্ন কারণে হ্যাঁ, এটি সেরা। আমরা আজ ১৮ কোটি মানুষকে খুশি করেছি। পৃথিবীর আর কোথাও এমনটা সম্ভব নয়। তাই অবশ্যই এটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্যের মধ্যে থাকবে।’

এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব থেকে বাংলাদেশের বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তাই এই জয়ের পরেও কিছুটা আক্ষেপের সুর শোনা গেল তার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, কষ্ট লাগে। কিন্তু এটিও এক ধরনের ফাইনাল ছিল। ২৩ বছরের অপেক্ষার পর এমন বড় ম্যাচ জেতা। আজ সেটাই হয়েছে। আমরা জানতাম পারফরম্যান্স হচ্ছে, এবার দরকার ফল। আজ হয়তো পারফরম্যান্স পুরোপুরি হয়নি, কিন্তু ফল এসেছে।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে হামজা জানান, মার্চে নতুন করে প্রস্তুতি নিয়ে পারফরম্যান্স ও ফলের সমন্বয়ে আরও শক্তিশালী দল হিসেবে ফিরতে চান তারা। ইংল্যান্ডে বেড়ে উঠলেও বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত মন থেকেই নিয়েছেন তিনি। এই জয়কে নিজের একটি স্বপ্নপূরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, খুব তাড়াতাড়ি আমরা বড় কোনো টুর্নামেন্টেও কোয়ালিফাই করব। আমরা প্রমাণ করেছি আমরা সক্ষম। শুধু সময় আর ধৈর্য দরকার।’

দলের তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশংসাও করেন হামজা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে বহু কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। পূর্ণ স্টেডিয়ামের বিশাল চাপেও জায়ান, মিঠু সবাই দারুণ খেলেছে। মিতুল তো শেষ দিকে কয়েকটি বড় বল ধরে ম্যাচ বাঁচিয়ে দিয়েছে।’

ম্যাচের ৩২ মিনিটে একটি নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বাঁচান হামজা, যা দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। শেষ মুহূর্তে গোল হজমের পুরনো ধারা ভাঙার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার ভাগ্য নিজেই তৈরি করেন। আর আল্লাহর রহমতে আমরা নিরাপদেই ছিলাম, তাই জিতেছি।’