ঐকমত্য থাকা জরুরি

logo

শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ থেকে নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে আবার অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারও দেশে একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ বা পথনকশা ঘোষণা করেছে।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী পথনকশা ঘোষণার সময় ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এবং তফসিল ঘোষণা হবে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে’। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সেপ্টেম্বর থেকে সুশীলসমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ, নির্বাচনী বিভিন্ন আইন সংশোধনসহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রাধান্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে আরো যা রয়েছে, তা হলো সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও দেশী পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত করা।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনী পথনকশা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ইসি ঘোষিত রোডম্যাপের বিষয়ে খুশি। বিএনপি সন্তোষ প্রকাশ করলেও নির্বাচনের অন্য অন্যতম অংশীজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

গণমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ গতানুগতিক এবং কিছুটা বিভ্রান্তিমূলক। জাতির প্রত্যাশা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। এমনকি জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং এর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত হয়নি। এ অবস্থায় এই রোডম্যাপ ঘোষণা অপরিপক্ব ও আংশিক। এতে জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। অন্য দিকে এনসিপি বলছেÑ জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচনের দিকে যাওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল। তবে এ কথা সত্যি, নির্বাচনী পথনকশা ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশ নির্বাচনমুখী হলো।

প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের প্রথমটি বিনা ভোটের, দ্বিতীয়টি দিনের ভোট রাতে এবং তৃতীয়টি ছিল আমি-ডামির নির্বাচন। প্রকৃত বাস্তবতায় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা জমানায় সব পর্যায়ে ভোটের নামে তামাশা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সঙ্গত কারণে ফ্যাসিবাদ-উত্তর দেশে এখন সবার প্রত্যাশা, এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে। সেই সাথে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

আমরা মনে করি, ইসি ঘোষিত রোডম্যাপের ভেতর দিয়ে দেশের নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করবে। তবে রোডম্যাপ নিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তা সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দূর করতে হবে। কারণ আগমী নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াটা খুব জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here