বিসিবিতে দুই পাকিস্তানি কোচ

বিসিবিতে দুই পাকিস্তানি কোচ 

মহসিন কামাল ফেল করার পর পাকিস্তানি কোচের প্রতি সেভাবে ঝুঁকতে দেখা যায়নি বিসিবিকে। মাঝে লম্বা বিরতি দিয়ে স্পিন পরামর্শক কোচ করা হয়েছিল সাকলাইন মুশতাককে। গত দেড় যুগে পাকিস্তান থেকে আসা কোচদের মধ্যে তিনিই ছিলেন বড় মাপের। সম্প্রতি মুশতাক আহমেদের নিয়োগে পাকিস্তান থেকে কোচ আমদানির বিষয়টি সামনে আসে। মুশতাক আহমেদের আগেই স্পিন কোচ হিসেবে বিসিবিতে নিয়োগ পেয়েছেন শাহিদ মাহমুদ। গত বছর অক্টোবর মাসে গেম ডেভেলপমেন্টের লেগ স্পিন কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয় তাঁকে।

গুগলে সার্চ করে শাহিদ মাহমুদের কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইটেও মৌলিক তথ্য ছাড়া কিছু নেই। দেশটির অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিক শাহেদ হাশমিও প্রথম শ্রেণির সাবেক এ ক্রিকেটার সম্পর্কে তেমন কিছু বলতে পারলেন না। শেষে তিনি বলেন, পিসিবিতে মেইল দিয়েছেন শাহিদ মাহমুদ সম্পর্কে তথ্য চেয়ে।

খেলোয়াড়ি বা কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে নিখুঁত তথ্য না পাওয়া গেলেও বিসিবিতে কাজ করে লেগ স্পিন কোচ হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেলেন এ পাকিস্তানি। গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজনের কাছে লেগ স্পিন কোচের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘শাহিদ মাহমুদ ঢাকা লিগে খেলেছেন মোহামেডানে। চট্টগ্রামের হয়ে জাতীয় লিগে খেলেন এক মৌসুম। সম্ভবত ১৯ উইকেট নিয়েছিলেন। পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার ছিলেন। পিসিবির বয়সভিত্তিক দলেও কাজ করেছেন। আমরা লেগ স্পিনার হান্ট করাচ্ছি মাহমুদকে দিয়ে। জেলায় জেলায় পাঠিয়েছি খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট, লিগ থেকেও লেগ স্পিনার নিয়েছেন। আমার মনে হয়, ভালো কাজ করবেন।’

বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টে বিদেশি কোচের নিয়োগ দেওয়া হয় সাধারণত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ মাথায় রেখে। বিশ্বকাপ শেষে স্টুয়ার্ট ল’র সঙ্গে বোর্ডের চুক্তি শেষ হলেও একজন রয়ে গেছেন। তিনি হলেন ভারতের ওয়াসিম জাফর। তাঁর কোচিং দর্শন নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে বিসিবিতেই। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি কর্মকর্তাদের মুখেই শোনা– ওয়াসিম জাফর রক্ষণাত্মক ব্যাটিং কোচ। ঠাট্টা করে বলা হয়, টুক টুক ব্যাটিং কোচ জাফর। ভারতের সাবেক এ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার টেস্টের ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো।

বিসিবি কর্মকর্তারাও মনে করেন, টেস্টের বিশেষজ্ঞ ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করতে পারতেন তিনি। সেখানে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলের খেলোয়াড়দের রক্ষণাত্মক ব্যাটিং শেখানোর ভুল কৌশল প্রয়োগ করছেন। আশা করা হচ্ছে, লেগ স্পিন কোচ মাহমুদ অনভিজ্ঞ হলেও জাফরের মতো রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে কাজ করবেন না। গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ব্যবস্থাপক আবু ইমাম মো. কাউসার জানান, প্রয়োজন হলে মাহমুদের ট্যালেন্ট হান্ট থেকে ভালো লেগ স্পিনারদের বাছাই করে উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে মুশতাক আহমেদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

samakal