চোখের অশ্রু আর মায়ের মমতাতেও ভেজাল ঢুকে পডেছে

Minar Rashid

 

এক গ্রামে দুই বোনের মা মারা গেছে । বাড়ির অন্যদের কান্না থেমে গেলেও এই দুই বোনের কান্না যেন থামছে না । কিছুক্ষণ পর এক বোন অন্যজনকে বলে , ‘ বুজান তুমি কান্তে থাহো, আমি একটু হানি জিরাইয়া লই । ‘

অনেকদিন পর ছোট বেলায় শোনা এই গল্পটি মনে পড়ে গেল । কারণটি হয়তোবা অনেকেই ধরে ফেলেছেন ।

ভেজালের এই দুনিয়ায় দুটি জিনিসে কোন ভেজাল নেই । একটি হলো মানুষের চোখের অশ্রু , অন্যটি সন্তানের জন্যে মায়ের ভালোবাসা । এখন এই চিরাচরিত বিশ্বাসেও যেন চিড় ধরে গেছে ।

অন লাইন এবং অফ লাইনে এই দুটি বিষয় আজ ‘ টক অব দা ডে ‘ তে পরিণত হয়েছে । এই দুটি বিষয়ের purity বা বিশুদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের উদয় হয়েছে ।

নিজের সুখের লাগি’ এক মা নিজ হাতে তার আপন দুই সন্তানকে হত্যা করেছে । কিছুদিন আগে শিশু সামিউলও একই কারণে নিজ মায়ের হাতে প্রাণ দিয়েছিল । খবরটি শোনার পর থেকেই মানসিকভাবে অত্যন্ত ডিষ্টার্বড হয়ে আছি ।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশ জেতার পর প্রধান মন্ত্রীর কান্না দেখে অনেকের মনে সম ধরণের রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে । কেউ কেউ এটাকে পলিটিকেল কান্না হিসাবেও গণ্য করছেন । তসলিমা নাসরীনও এটা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন । এটা কতটুকু খাঁটি কান্না তা নিয়ে বলতে গেলে পুরো দেশ গবেষণায় নেমে গেছে ।

আমাদের দেশের ক্রিকেটের মান বেশ কিছুদিন থেকেই বিশ্ব মানে চলে এসেছে । আমাদের ছেলেরা বিশ্বের যে কোন দলকে হারানোর হিম্মত রাখে । পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এটাই আমাদের প্রথম জয় নহে । এর আগে আরো বড় বড় দলকেও হারিয়েছে । ক্রিকেটের এই জয় অপ্রত্যাশিত ছিল না । এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কান্না এবং তা ফলাও করে টিভিতে প্রদর্শন পুরো জাতির মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে । সারা বিশ্ব আমাদের এই ধরনের আবেগগত সমস্যা ( Emotional disorder ) দেখে নির্ঘাত হাসছে ।

সমাজের গাথুনি ঠিক রাখতে প্রত্যেক সমাজের কিছু নিজস্ব উপায় বা পদ্ধতি রয়েছে । তন্মধ্যে ধর্মীয় বিধিবিধান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে শৃংখলা বজায় রাখতে বা তা ফিরিয়ে আনতে ধর্মের কোন বিকল্প নেই ।

আজ বিভিন্ন কৌশলে ধর্মের সেই বাঁধনগুলিকে আলগা বা হাল্কা করে ফেলা হয়েছে । ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুরো ধর্মকেই গলা টিপে ধরা হয়েছে । যে কোন ধর্মীয় বইকে জেহাদী বই নাম দেয়া হচ্ছে । আগাছা পরিস্কার করতে গিয়ে আস্ত গাছকেই উপড়ে ফেলা হয়েছে । জঙ্গীবাদ , মৌলবাদ প্রভৃতি অপবাদ দিয়ে এবং সর্বত্র এক ধরণের আতংক সৃষ্টি করে মানুষের কাছ থেকে ধর্মকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে ।

অন্যদিকে অশ্লীলতা ও অপসংস্কৃতিকে বিনা বাঁধায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে । বিশেষ করে ইন্ডিয়ান টিভি চ্যানেল ও তাদের সিরিয়ালগুলি পরকীয়ার প্রশিক্ষণ বা লেসনের জন্যে একেকটা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে পড়েছে । সেই সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘরে ঘরে পরকীয়ার ডক্টরেট সৃষ্টি হচ্ছে ।
কাজেই আজ মায়ের বুক থেকে মমতা উধাও হয়ে পড়েছে । ভোগবাদ আজ আমাদের সমগ্র সত্ত্বাকে গ্রাস করে ফেলেছে । এই ভোগের সম্মুখে নিজের সন্তানও পথের কাঁটা হয়ে পড়ছে ।
কোনটা খাঁটি অশ্রু আর কোনটা ভেজাল , তা চেনাও দুস্কর হয়ে পড়েছে ।

 

1 COMMENT

Comments are closed.