সীমান্ত হত্যা : বিএসএফের গুলি ছোড়ার অনুশীলন

ড. এ কে এম মাকসুদুল হক:

নতুন বছরে আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতিম দেশ দুই দু’টি লাশ উপহার দিয়েছে আমাদেরকে। লাশ দু’টির একটি হলো বাংলাদেশের সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সৈনিক সিপাহী রইসুদ্দীনের। আর দ্বিতীয়টি হলো জনৈক দরিদ্র গ্রামবাসী রবিউল ইসলামের। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের দু’জন নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো প্রিয়তম বন্ধু ভারতের বিএসএফের গুলিতে।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যাকাণ্ড একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিএসএফকে বলা হয় ‘ট্রিগার হ্যাপি’ বাহিনী। তারা নিরস্ত্র, দারিদ্র্যপীড়িত সীমান্তবর্তী বাংলাদেশী নাগরিকদের দিকে রাইফেলের ট্রিগার টিপতে পারলেই আনন্দিত হয়। এই বাহিনীর বীর সেনানীরা আসলে নিরস্ত্র বাংলাদেশীদেরকে গুলি ছোড়ার অনুশীলনের জন্য টার্গেট বা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করতেই পছন্দ করে থাকে!

এভাবে তারা ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ১২৭৬ জন বাংলাদেশী বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে (ড. সি আর আবরার; ডেইলি স্টার : ২৭ জুন ২০২৩)। গত জুন থেকে এ বছর জানুয়ারি পর্যন্ত বিএসএফ মোট ১১ জন নিরীহ বাংলাদেশী মানুষকে হত্যা করেছে যাদের মধ্যে একজন বিজিবি সদস্যও রয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি মাসে একজনেরও বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। গত আট মাসের ১১টি হত্যাকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হত্যার শিকার ব্যক্তিদের বয়স ২৫ থেকে ৫৫ এর মধ্যে। অধিকাংশই ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন এবং তাদের শরীরের সম্মুখভাগে অর্থাৎ বুকে বা পেটে গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ড সীমান্তের ভারতীয় অংশের ২০০-৩০০ গজের মধ্যে হলেও কয়েকজনকে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে বিএসএফ গুলি করেছে। হত্যার পর কোনো কোনো লাশ তারা সীমান্তে ভারতের গভীর অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে এবং পরে ভারতের হাসপাতাল ও পুলিশের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজিবি ও বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই হত্যাকাণ্ড চলছে বিস্তীর্ণ সীমান্তজুড়ে। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, তেঁতুলিয়া, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও বি-বাড়িয়া সীমান্তে। তবে যারা হত্যার শিকার হচ্ছেন তারা কেউ অস্ত্রধারী নন। তারা নিতান্তই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠী। তারা মূল চোরাকারবারিদের কুরিয়ার বা বহনকারী মাত্র। একেবারেই পেটের দায়ে শ্রমিক হিসেবে দুমুঠো ভাতের জোগাড়ের জন্য দুই দেশের চোরাকারবারিদের মালামাল বহন করে দিয়ে থাকে মাত্র। এদের কারো কাছে কোনো অস্ত্রও থাকে না বা তারা কোনোভাবেই বিএসএফের জন্য কোনোরূপ হুমকিও সৃষ্টি করে না। কাজেই তাদেরকে গুলি করে হত্যা করার মতো কোনো পরিস্থিতিই বিএসএফের থাকতে পারে না।

আন্তর্জাতিক সীমান্তরক্ষা আইন মোতাবেক, মারণাস্ত্র ব্যবহার বা আত্মরক্ষার জন্য সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে গুলি করার বিধিকে পদদলিত করেই বিএসএফ গুলি চালিয়ে থাকে। অর্থাৎ বিএসএফ বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তার সবগুলো পর্যায় লঙ্ঘন করেই এসব হত্যাকাণ্ড চালায়। এসব ব্যক্তির প্রথম সুরক্ষা হলো এরা বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের নাগরিক; দ্বিতীয়ত, সর্বকালের সর্বোচ্চ বন্ধুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, তৃতীয়ত, মানবাধিকার ও চতুর্থত, আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ইত্যাদি সব রক্ষাকবচ পদদলিত করেই এই হত্যাকাণ্ডগুলো চালানো হয়। আমরা জানি, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফেলানী হত্যাকাণ্ডের কথা। সেই কিশোরী বিয়ের পিড়িতে বসার জন্য বাবার সাথে কাঁটাতারের বেড়া পার হচ্ছিলেন। আসামের চা-বিক্রেতা এই ব্যক্তি নুর ইসলাম দেশে ফিরার সময় নিজে পার হতে পারলেও তার সন্তান ফেলানীর কাপড় কাঁটাতারে আটকে যায়। এতে নিষ্পাপ মেয়েটি বেড়ায় ঝুলে যায়। এমতাবস্থায় বিএসএফের বীর সৈনিক ‘অমিয় ঘোষ’ ফেলানীকে পাখি শিকারের মতো গুলি করে হত্যা করে। আহত মেয়েটি পানি চাইলেও তা দেয়া হয়নি। এভাবেই তার মৃত্যু ঘটে এবং সাড়ে ৪ ঘণ্টা বেড়াতেই লাশটি ঝুলতে থাকে। সেই ফেলানী হত্যার সুবিচার আজ পর্যন্ত করেনি ভারত সরকার!

তবে এ বছরের শুরুর হত্যাকাণ্ডটি বিএসএফ ঘটিয়েছে অত্যন্ত উদ্ধতভাবে। এটি ছিল ভারতের অপ্রতিবেশীসুলভ, অবন্ধুসুলভ আধিপত্যবাদী অহঙ্কারের প্রতিবিম্ব। গত ২২ জানুয়ারি ভোরে যশোরের শার্শা উপজেলার ধানখোলা সীমান্তে ৪৯ বিজিবির সিপাহী রইসুদ্দীনকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ সদস্যরা। পত্র-পত্রিকা মারফত জানা যায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে চোরাকারবারিদেরকে বিজিবির টহল দল ধাওয়া করতে গেলে দলের সদস্য সিপাহী রইসুদ্দীন দলছুট হয়ে কুয়াশার মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলেন। পরে জানা যায়, তিনি ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। কিছু প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এখানে। ওই সিপাহীর বয়স ৩৩ বছর। অর্থাৎ তিনি কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞ সৈনিক। ১০ বছরের অভিজ্ঞ একজন সৈনিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সীমান্তে অসংখ্য টহল ডিউটির মাধ্যমে নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে অবশ্যই ওয়াকিবহাল ছিলেন। সীমান্তে টহল দল অপরাধীকে ধাওয়া দিলেও অন্য দেশে কখনো বিজিবি প্রবেশ করে না। আর পদাতিক টহল সদস্যের পক্ষে হেঁটে হেঁটে কুয়াশার মধ্যে পথ হারানো খুব সহজ ঘটনা নয়! এখানে গুলি বর্ষণকারীদের আগ্রাসী ভূমিকা বা অপরাধ অবশ্যই রয়েছে। বিএসএফের সৈনিক কখনো লক্ষবস্তু না দেখে গুলি ছোড়ে না। সিপাহী রইসুদ্দীনকে ইউনিফর্ম পরিহিত থাকায় ঘন কুয়াশার মধ্যেও সহজেই বিজিবির সদস্য হিসেবে বুঝতে পারার কথা। আর কুয়াশার কারণে কাছে থেকে লক্ষ্য স্থির করে গুলি না করলে এ রকম হত্যাকাণ্ড হওয়ার কথা নয়। তবে এগুলো সবই পরিস্থিতির বিশ্লেষণ। প্রকৃত পরিস্থিতি অন্য যেকোনো রকমই হতে পারে। কাজেই এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে ভারতকে।

এখন প্রশ্ন হলো- কেন বিএসএফ দশকের পর দশক ধরে এ ধরনের সীমান্ত হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে? মহাপরিচালক পর্যায়ের প্রতিটি সম্মেলনে বিএসএফ এই হত্যাকাণ্ড বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়। এমনকি ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরদিন থেকেই পুনরায় হত্যাকাণ্ড চালায় বিএসএফ। এর কতগুলো স্ট্র্যাটেজিক কারণ অবশ্যই আছে। বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত প্রকৃতপক্ষে ‘ঝযড়ড়ঃ ড়হ ৎরমযঃ’ নীতি অনুসরণ করে। তাদের ভয় হলো, বাংলাদেশী মুসলমানরা অভিবাসনের মাধ্যমে তাদের ‘উবসড়মৎধঢ়যু’ ভারসাম্যহীন করে তুলতে পারে। তাদের ভুল ধারণা যে, সীমান্ত পারাপারের মাধ্যমে কাশ্মির পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে। এ ছাড়া ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এই ক্রস-বর্ডার আনাগোনার সুযোগ নিতে পারে। অর্থাৎ যত বন্ধুত্বই হোক, ভারত বাংলাদেশের দিক থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্বাস করতে পারছে না। সীমান্ত হত্যার আরেকটি কারণ হলো- আমরা এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করছি না। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর ট্যাকটিকাল লেভেলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শুধু লাশ গ্রহণ করেই আমরা সন্তুষ্ট থাকছি। এটি আমাদেরকে নতজানু হিসেবে উপস্থাপন করছে। এক দিকে আমরা সীমান্তে সিপাহী রইসুদ্দীনের লাশ গ্রহণ করছি, অন্য দিকে আমাদের জাতীয় নেতারা ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে নিয়ে শীতের পিঠা খাচ্ছেন, নির্বাচনে সহযোগিতার জন্য অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন! তদুপরি একজন মন্ত্রী এই সিপাহী হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলায় বিএসএফের অপরাধটি একেবারে হালকা হয়ে পড়েছে। এসব ছাড়াও আমাদের সীমাহীন জাতীয় অনৈক্য, দুর্বল গণতন্ত্র, দুর্বল প্রশাসন, সুশাসনের অভাব তো রয়েছেই। সীমান্তে আমাদের ভূ-প্রকৃতি, কঠিন দারিদ্র্য, অনুন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো, মাফিয়া চক্রের দাপট ইত্যাদি সবই একসাথে সীমান্তে আমাদের নিরীহ নাগরিকদের বিএসএফ কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছে। অন্য দিকে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশীরা অত্যন্ত সাহসী হওয়ায় বিএসএফ সদস্যরা ভীতি থেকেও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে বসে।

তবে এই নতুন বছরের জানুয়ারি মাসের এক সপ্তাহের মধ্যে একজন বিজিবি সদস্যসহ দুইজন বাংলাদেশীকে হত্যার কী রহস্য থাকতে পারে? এ নিয়ে সিভিল সোসাইটিতে ব্যাপক আলোচনা হতে দেখা গেছে। অনেকে মনে করেন, ভারত একটি স্ট্র্র্যাটেজিক উদ্দেশ্য নিয়ে বিএসএফের মাধ্যমে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি ভারতে বাবরি মসজিদের স্থানে নবনির্মিত রাম মন্দির পূজার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করেছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ স্পর্শকাতর মানুষের মনোযোগ ঘুরিয়ে দেয়া অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। এ দিকে দেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সমালোচকরা মনে করেন, এমনকি মন্ত্রী মহোদয়রা বলেছেন- এই সরকার ভারতের বলিষ্ঠ সহযোগিতায়ই নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। এমতাবস্থায় এই দুর্বল সরকারকে ভারতীয় আধিপত্য ও কর্তৃত্বের একটি মেসেজ দেয়া প্রয়োজন ছিল। তা ছাড়া ভারত যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের মনোযোগ অন্য দিকে আকর্ষণের একটি প্রয়াস হতে পারে। আবার অনেকে মনে করেন, ভারতের আচরণে হতাশ সরকার বিরোধীদের হাতে ভারত বিরোধী ইস্যু তুলে দিয়ে দেশের জনগণকে বোঝানো যে, ভারত বিরোধিতা করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সফলতা সম্ভব নয়!

বিএসএফের এসব সীমান্ত হত্যাকাণ্ড সার্বিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের ভারতবিরোধী মনোভাবকে উসকে দিতে পারে। গত নভেম্বরে বিশ^কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার জয় নয়; বরং ভারতের বড় পরাজয়কে বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশকে উপভোগ ও উদযাপন করতে দেখা গেছে! এ অবস্থা এক দিনে হয়নি। ভারতের ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশীদের নিপীড়ন, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও আধিপত্যবাদী মনোভাবের কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। একই সাথে বিএসএফের এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশেও সরকারবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করতে পারে। বিশেষ করে রাজপথে বিরোধী দলের হাতে আন্দোলনের নতুন হাতিয়ার তুলে দিতে পারে। তা ছাড়া, বাহিনী হিসেবে বিজিবি সদস্যরাও হতাশাগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি সম্প্রতি মালদ্বীপে ভারতবিরোধী যে স্পর্শকাতরা সৃষ্টি হয়েছে তা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে হতে পারে।

সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যা ভারতের প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাসবাণীতে কখনো বন্ধ হবে না। এ জন্য আমাদেরকে মাথা উঁচু করে শক্ত পায়ে দাঁড়াতে হবে। ২০১৭ সালে নেপালে এ ধরনের একটি হত্যাকাণ্ডের পর সেখানকার গণ-অসন্তোষের ভয়ে ভারত আর দ্বিতীয়টি করার সাহস হারিয়েছে। পাকিস্তানে ইরানের সাম্প্রতিক আক্রমণে পাকিস্তানের পাল্টা আক্রমণ ইরানকে বাধ্য করেছে পাকিস্তানের সাথে শান্তির আলোচনায় আসতে। আবার পাকিস্তানের সীমান্তে একটি নাগরিককেও ভারত হত্যা করার সাহস রাখে না। তারা শুধু বাংলাদেশীদেরকেই হত্যা করে যাচ্ছে বীরদর্পে। কিন্তু আমাদের নেতৃত্ব এগুলোকে নীরবে মেনে তো নিচ্ছেনই, তদুপরি হত্যাকাণ্ডের শিকার দরিদ্র বাংলাদেশীদেরকে আমাদের নেতারা ভারতের ন্যারেটিভের মতোই অপরাধী সাব্যস্ত করছেন। এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে প্রকারান্তরে হত্যাকাণ্ডকে এক ধরনের অনুমোদন দিচ্ছেন। আমাদের নেতৃত্ব যদি শিরদাঁড়া শক্ত করে না দাঁড়ায়, তবে এই সীমান্ত হত্যা চলতেই থাকবে। কোনো দিনই বন্ধ হবে না।

Nayadiganta