
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার সমঝোতাটিকে সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করেছে সরকার। ছাত্রদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও—বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ‘শত শত শিক্ষার্থীকে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দিল্লিতে আরও বহু শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সিজিপির এই মুখপাত্র।
ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন সংবাদের কথা উল্লেখ করে রাঙ্কা দাবি জানান, (আমাদের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী) আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এজাহার অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে এবং দিল্লির পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা বিজেপি-জোটশাসিত রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন পরবর্তীতে কোনো নতুন এজাহার দায়ের না করে।
তিনি বলেন, এসব দাবি পূরণ না হলে সিজেপি আবারো আন্দোলনে নামবে। তিনি আরও যোগ করেন, আইনি মামলার বিষয়ে স্বাক্ষরিত লিখিত সমঝোতা এবং ভারত সরকারের সাথে নির্ধারিত সময়সূচি—আগামীকালের মধ্যে তাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ারও দাবি জানাচ্ছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া অন্য এক বিবৃতিতে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, প্রথম দিন থেকেই তারা আন্দোলনকারীদের সব ধরনের আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন। ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংকে দেশজুড়ে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তি দেওয়ার চুক্তিটি ‘অবিলম্বে সম্মান করার’ আহ্বান জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার তাদের দেওয়া কথা রাখবে—এই সদিচ্ছা থেকেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তিনি তরুণ আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সিজেপি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাবে।
এদিকে বিহারে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা আজ ২৭ জুলাই পাটনায় পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি বলেন, “আন্দোলন করার অপরাধে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সরকারকে অবশ্যই তার আশ্বাস বজায় রাখতে হবে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে; অন্যথায় দিল্লির মতো বিহারেও প্রবল আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে।” পাটনার সংবাদ সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত না গ্রেপ্তার হওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থী মুক্তি পাচ্ছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন থামবে না। ভিন্নমত পোষণের অধিকার সাংবিধানিক অধিকার, কোনো অপরাধ নয়। কোনো সরকারই এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।”
সিজেপির ৩৬ দিনের আন্দোলন
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মূল দাবি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নেওয়ার পর সিজিপি তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার কয়েক দিন পরই এই নতুন উত্তেজনা তৈরি হলো। আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
পরীক্ষায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গত ২০ জুন শুরু হওয়া এই আন্দোলন জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে চরম রূপ নেয়। পরবর্তীতে সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে তা প্রত্যাহার করা হয়।
‘লাঠিচার্জ করা যাবে না’, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
এদিকে গত সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে একটি নিজস্ব শৃঙ্খলার” আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন যে কেবল আন্দোলন চলছে বলেই পুলিশের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ বা সহিংসতা চালানো যাবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ দিল্লিতে এবং ভারতের অন্যান্য স্থানে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য মনোজ ঝা-সহ অন্যদের করা একাধিক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে একথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “প্রতিবাদ করার অধিকার, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, আইনি প্রতিবাদ সাংবিধানিক ব্যবস্থার অধীনে পুরোপুরি নিশ্চিত। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেবল আন্দোলন হচ্ছে বলেই সেখানে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করা যাবে না।”
Source: https://www.tbsnews.net/bangla/international/news-details-519576








