- ২৪ ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরিকল্পনা সাজানোর পর্ব শেষ, এখন আর ঘরে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। বরং গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ না করে রাজপথে সক্রিয় হতে হবে।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই নির্দেশনা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নেতাকর্মীদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু পরিকল্পনা করলেই হবে না, তা বাস্তবে রূপ দিতে হবে। এজন্য গ্রাম থেকে শহরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে হবে।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, কথার জাদুতে মানুষের ক্ষুধা মেটে না বা কর্মসংস্থান তৈরি হয় না। জনগণের ভাতের নিশ্চয়তা দিতে হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন, যা একমাত্র বিএনপির হাতেই রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয়তাবাদী দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলেই কেবল হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে।
দল ক্ষমতায় গেলে জনকল্যাণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার একটি বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এর মধ্যে রয়েছে কৃষকদের জন্য বিশেষ ফার্ম কার্ড, সাধারণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হেলথ কার্ড এবং সরকারি কর্মচারীসহ প্রান্তিক মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।
দুর্নীতি দমনে দলের অতীত সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। তখন সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হতো না। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী সরকার সেই নিয়ম বদলে ফেলেছিল। বিএনপির সরকার গঠিত হলে আবারও কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দেওয়া হবে এবং তদন্তের জন্য সরকারি অনুমতির বিধান বাতিল করা হবে।
দলের এই উন্নয়ন পরিকল্পনা সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। ইমাম-মুয়াজ্জিন, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, মা-বোন এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে এই বার্তা নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের হাতে কোনো জাদু নেই। তবে আমরা যদি পরিকল্পনার অন্তত ৪০ ভাগও বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রাখবে।’
অতীতের সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে বিএনপি সরকারের সময়ে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপে অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এই সভার সভাপতিত্ব করেন দেশ গড়ার পরিকল্পনা কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।









