আশরাফুল ইসলাম
(১ দিন আগে) ১০ অক্টোবর ২০২৫, শুক্রবার, ১:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৩ অপরাহ্ন

লেখার শুরুতেই একটি তথ্য উপস্থাপন জরুরি, সেটি হচ্ছে- ১৯৫৭ সালের শেষ দিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ আমাদের বাংলাদেশে গুটিবসন্ত ও কলেরার প্রকোপ বেড়ে যায় এবং ১৯৫৮ সালে এসে এটি মহামারি আকার ধারণ করে। ফলে এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। ১৯৫৮ সালের ২৮ মে দ্য পাকিস্তান অবজারভারে আগেরদিন ২৭মে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ব পাকিস্তান মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও ত্রাণ বিতরণ কমিটির সেক্রেটারি ইউসুফ আলী চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যকে উদ্বৃত করে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানে এই পর্যন্ত মহামারিতে ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এর ১৪ দিন আগে ১৪ মে দৈনিক আজাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৫৮ সালের মহামারিকে মানুষ সৃষ্ট মহামারি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি মহামারির জন্য প্রাদেশিক সরকারের অযোগ্যতা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন।
১৯৬০ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত পাবলিক হেলথ রিপোর্টে বলা হয়, ঢাকায় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক থমাস এইডেন কাকবার্ন ১৯৫৮ সালের প্রথম ছয় মাসে শুধু গুটিবসন্তে ২০ হাজার ৪৪৪ জনের মৃত্যুর বিষয়ে তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন।
এসব তথ্য ও পরিসংখ্যানে ওই সময়ে গুটিবসন্ত ও কলেরার কারণে সৃষ্টি হওয়া মহামারির ভয়াবহতার চিত্রই আমরা দেখতে পাই। এখানে একটি তথ্য আমি দিয়ে রাখতে চাই, ১৭৯৬ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক এডওয়ার্ড জেনার গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কার করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত আরেকটি তথ্য দেওয়া জরুরী, যেটি হচ্ছে- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ২ লাখ ২৫ হাজার গুটিবসন্তের রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছিল ৪৫ হাজার রোগীর। এরপর টিকা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয় এবং ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশকে গুটিবসন্তমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে টিকা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের সুরক্ষার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। অথচ তৎকালীন সময়ে এই টিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে ভুল ধারণাসহ নানা ধরনের গুজব প্রচলিত ছিলো। তখন প্রচারাভিযান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন ভুলধারণাসহ গুজবের অচলায়তন ভেঙ্গে দেওয়া সম্ভব হয়েছিলো। গুটিবসন্ত ছাড়াও তখন কলেরা, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, টাইফয়েড, কালাজ্বর, কুষ্ঠ, জলাতঙ্ক, ধনুষ্টংকার ও হামের ব্যাপক প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। এসব রোগে তখন বহু মানুষের মৃত্যু হতো। ফলে সেই সময় গুটিবসন্তের মতো অন্যান্য রোগেরও টিকা কর্মসূচির জোরদার করার বিষয়টি সামনে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইপিআই-এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শহরাঞ্চলে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয় এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সাল থেকে সম্প্রসারিত আকারে দেশের গ্রামাঞ্চলেও এই কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত নবজাতক, শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বাদের বিভিন্ন প্রকার টিকা দেয়া হতো। শিশুদের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিস্তার রোধ করার জন্য সরকারের নেয়া সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এটি। শুরুতে যক্ষ্মা (টিবি), ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশ (পারটুসিস), ধনুষ্টংকার (টিটেনাস), পোলিও ও হাম- এ ছয়টি রোগের টিকা দেয়া হতো। পরে এর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে পোলিও নির্মূল এবং মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার নির্মূল কর্মসূচি শুরু হয় ১৯৯৩ সাল থেকে। পরে ২০০৩ থেকে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা দেয়া শুরু হয়। ২০০৯ সাল থেকে পেন্টাভ্যালেন্ট এবং হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে। ২০১২ সালে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এমআর টিকা এবং হামের দ্বিতীয় ডোজ শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে নিউমোনিয়ার নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন- পিসিভি দেওয়া হচ্ছে। আবার জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর টিকা বিনামূল্যে দেয়া হয়। গুটিবসন্তের মতো পোলিও একসময় বাংলাদেশে গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা ছিল। কিন্তু টিকা কার্যক্রম জোরদার করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করে।
গত ২১ এপ্রিল প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কল্যাণে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ শিশুর সংক্রমণ রোধ এবং ৯৪ হাজার শিশুমৃত্যু কমেছে। ইপিআই কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে, রোগাক্রান্ত হয়ে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুহার ছিল ১৫১ জন, যা ২০২৪ সালে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। শিশু মৃত্যুহার কমেছে ৮১ দশমিক পাঁচ শতাংশ। গত ৫০ বছরে টিকার মাধ্যমে বাংলাদেশ অনেক রোগ নির্মূল করতে পেরেছে। পোলিও ও হামের মতো ভয়ানক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। ১৯৭৪ সাল থেকে টিকা প্রতি মিনিটে ছয় জন শিশুর জীবন বাঁচিয়ে চলেছে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, টিকা নিয়ে এক সময় মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণা থাকলেও টিকাদান কর্মসূচি বর্তমানে দেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও টেকসই একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সারা দেশে ইপিআইয়ের এই গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে নতুন টিকার প্রয়োগ ও ব্যবহারের সময়ে সচেতনতা সৃষ্টি, বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের প্রচার ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে গণমাধ্যম সব সময় ভূমিকা রেখে আসছে। এসবের মাধ্যমে গণমাধ্যম টিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। এর ফলে জনগণের মধ্যেও দায়িত্বশীলতা তৈরি হচ্ছে। কেননা, টিটেনাস, ডিফথেরিয়া, যক্ষ্মা, পোলিওর মতো মারাত্মক রোগের কারণে বিকলাঙ্গতা ও মৃত্যু যে হতো, এটা মানুষ জানতো। টিকা নিয়ে জনগণের ভুল ধারণা দূর করতে গণমাধ্যমের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আরো স্পষ্ট করে বললে, ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) বাস্তবায়নে গণমাধ্যম জনসচেতনতা বৃদ্ধি, টিকা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সরবরাহ, ভুল তথ্য প্রতিহত করা এবং টিকাদান কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গণমাধ্যম সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক সমর্থন তৈরি করে এবং টিকাদান অভিযান সফল করতে জনসমাগম ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা স্বাস্থ্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির বাস্তবায়নে সহায়ক হয়। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে ইপিআই চালু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, এর পেছনে গণমাধ্যমের একটি মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যম ইপিআই সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে ধারণা ও সচেতনতা তৈরি এবং টিকাদান কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে সহায়তা করে এসেছে। তবে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসমূহের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় সময়েই দেশে ইপিআই টিকার সংকট দেখা দেয়। এছাড়া কিছু শিশু এখনও মৌলিক টিকার সম্পূর্ণ কোর্স পায় না এবং আরও অনেকে নতুন টিকা থেকে বঞ্চিত হয়, এর ফলে তারা প্রতি বছর ভ্যাকসিন-প্রতিরোধযোগ্য রোগের ভবিষ্যৎ প্রাদুর্ভাবের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। তবে আমাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে নতুন নতুন টিকা ইপিআই কর্মসূচিতে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়বে, পাশাপাশি অসুখ–বিসুখের পরিমাণও কমে যাবে।
এরই ধারাবাহিকতায় দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং টাইফয়েডের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা করতে বিনামূল্যে টাইফয়েডের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশব্যাপী প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ০৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ৫ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে ০১ ডোজ টাইফয়েড টিকা দেয়া হবে। প্রথমবারের মতো হওয়ায় পূর্বের যেকোনো ক্যাম্পেইনের মতোই টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নও একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। এই ক্যাম্পেইন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই অনলাইন-অফলাইনে নানা গুজব ও ভুল তথ্য শেয়ার হতে আমরা দেখছি। এসবের মাধ্যমে টাইফয়েড জ্বরের বিস্তার রোধ করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ভণ্ডুল করার অপপ্রয়াস বিদ্যমান রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টাইফয়েড জ্বরের টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য। কেননা এই টিকা নেওয়ার মাধ্যমে আমাদের শিশুরা তাদের সম্ভাব্য জীবন-হুমকির রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে।
এখন দেখা যাক, টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন সম্পর্কে কি কি অপতথ্য কিংবা গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
অপতথ্য-১: যারা টিকা দিতে আসবে সকলে মিলে তাদের টিকা স্পটেই নিশ্চিত করুন। তারপর যদি তারা বেঁচে থাকে তখন সবাই টিকা গ্রহণ করুন। আমরা মুসলিমরা ইহুদি খ্রিস্টানদের হাতের পুতুল নই যে তারা একেক ভ্যাকসিন আবিষ্কার করবে টাকা কামানোর উদ্দেশ্যে আর সেগুলো মুসলমানদের উপরে ফ্রি চিকিৎসার নামে প্রয়োগ করে রেজাল্ট সংগ্রহ করবে।
অপতথ্য-২: স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে কেউ কোনো প্রকার ভ্যাকসিন/টিকা গ্রহণ করবেন না। মনে রাখবেন ফ্রিতে দেওয়া সবকিছু ভালো ফল বয়ে আনে না। আগে যাচাই-বাছাই করে দেখুন এই টিকাগুলো আগে অন্য কোনো দেশে প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা বা করলেও তার রেজাল্ট পজিটিভ কিনা? ফ্রি পাচ্ছেন বলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে গ্রহণ করে ভবিষ্যতে নিজের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনবেন না। এটা আপনার উপরে পরীক্ষা করার জন্যও আসতে পারে, এটাও মাথায় রাখবেন।
অপতথ্য-৩: এটা কি করোনা টিকার মত কাজ করবে এলার্জি চুলকানি দাউদ একজিমা বিখাউজ সব এই টিকায় পাওয়া যাবে।
অপতথ্য-৪: শুনেছি কোন টিকা আবিষ্কারের পর গরিব দেশগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয় ভালোমন্দ যাচাই করার জন্য। তাই আমি ও আমার বাচ্চাদের এই টিকা দেব না ভালো মন্দ আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিলাম।
অপতথ্য-৫: টিকা ব্যবসায়ীদের কথা শুনলে মনে হবে- আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন সবাইকে গণহারে যক্ষ্মা, টায়ফয়েড, করোনা, হুপিংকাশি, নিউমোনিয়া, পোলিও, ক্যান্সার ইত্যাদির রোগী বানিয়ে রাখার জন্য আর মানুষের তৈরি গবেষণাগারে টিকা বানিয়ে সেসব রোগ-বালাই থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে! কিন্তু একটুখানি মস্তিষ্ক খাটালেই বুঝতে পারবেন- বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো!
অপতথ্য-৬: আশঙ্কার বিষয় হলো, বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশে বিনামূল্যে যে সকল টিকা সরবরাহ করা হয়, তার উদ্দেশ্য মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া নয়, বরং মানুষের উপরে টিকার প্রভাব সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো! টিকার নামে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে নিজের শরীরে বিষ ঢুকিয়ে কেউ সুস্থ জীবন যাপন করতে পারবে না। অতএব সাবধান..!
এ রকম অসংখ্য অপতথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সয়লাব। এসব কারণে টিকাদান ক্যাম্পেইনের নিবন্ধন সূচক খুবই কম। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, টিকাদান ক্যাম্পেইনে ব্যবহৃত টাইফয়েড টিকা বাংলাদেশে ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হচ্ছে না। পাকিস্তানে ২০১৯ সাল এবং নেপাল ২০২২ সাল থেকে সফলভাবে শিশুদের টাইফয়েড টিকা প্রদান করছে। টাইফয়েড টিকা ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক পরীক্ষিত, অনুমোদিত এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত। সামান্যতম সন্দেহ বা ঝুঁকি থাকলে এই টিকা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো না বলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বার্তা দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। শতভাগ শিশুকে এ টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে টিকাদানে নিবন্ধনের বিষয়টিও শিথিল করা হয়েছে। ফলে নিবন্ধন ছাড়াও এখন যে কোনো শিশু এ টিকা পাবে। এ রকম পরিস্থিতিতে ক্যাম্পেইনটি সফল করার লক্ষ্যে গণমাধ্যমই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। কেননা, অপ্রচলিত বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে পৌঁছানো কঠিন, সেখানেও গণমাধ্যম তথ্য পৌঁছে দেয়। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও ভূমিকা টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের সফলতার ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।









