- ২৪ ডেস্ক
- জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ এবং পুলিশের জন্য ‘হেয়প্রতিপন্নকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দলের কথায় পুলিশ চলবে, এমন ধারণা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানকে অবমাননার শামিল। সোমবার রাতে এক প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে তারা এই প্রতিক্রিয়া জানায়।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি আলোচনায় আসে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর একটি বক্তব্যের পর। গত শনিবার চট্টগ্রামে আয়োজিত একটি সমাবেশে তিনি বলেন, ‘যার যার নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, বসবে, গ্রেপ্তার করবে, মামলা করবে। পুলিশকে আপনার পিছনে পিছনে হাঁটতে হবে।’ থানার ওসি অনুষ্ঠানের আগে প্রটোকল দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শাহজাহান চৌধুরীর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই পুলিশের বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরে। তাদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার একটি অপপ্রয়াস।
প্রতিবাদলিপিতে অ্যাসোসিয়েশন উল্লেখ করে, সংবিধান ও দেশের আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশ পরিচালিত হয়। তারা স্বীকার করে যে, গত ১৭ বছরে পুলিশের কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাহিনীর দূরত্ব তৈরি করেছিল। তবে গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পুলিশ এখন অনেক বেশি নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
আসন্ন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের পক্ষে অবস্থান নেবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়। অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ‘রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দিন শেষ’। পুলিশ এখন কেবল আইন, বিধিবিধান ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বিশ্বাসী।









