এবার ভোটে জালিয়াতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই: মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও থেকে

(২ দিন আগে) ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১:০৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৭:৫৬ অপরাহ্ন

mzamin

facebook sharing button

এবারের ভোটে কোনো ধরনের ছলচাতুরি, জালিয়াতি বা কারচুপির সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। গত তিনটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি, আর একটিতে অংশ নিলেও ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় আমরা সবাই কারাগারে ছিলাম। কিন্তু এবার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, সুযোগ এসেছে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী এলাকা আকচা ইউনিয়নে এক পথসভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে যে সরকার দায়িত্বে রয়েছে তারা একটি নিরপেক্ষ সরকার এবং তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে আগ্রহী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলেই আজ জনগণের ভোট দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে জোরজবরদস্তি বা রাতের ভোট আর হবে না, একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ।
পথসভায় মির্জা ফখরুল বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল ও তেল কিনতে পারবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সেচ ও সার ক্রয় করা যাবে এবং কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি মা-বোনদের জন্য এনজিওর সকল কিস্তি এক বছরের জন্য মওকুফ করা হবে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ছয় মাসের মধ্যে এলাকার রাস্তাঘাট পাকাকরণ করা হবে, এখানে এলএসডি গোডাউন নির্মাণ করা হবে। তরুণদের জন্য কারিগরি শিক্ষা, নারীদের জন্য নার্সিং ট্রেনিং, প্রযুক্তিগত ডাটা এন্ট্রি ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করতে পারে। কৃষকদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আধুনিক হিমাগার ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার তোলা হবে।

বলেন, আগে মানুষের আয় বাড়াতে হবে। আয় বাড়লে বিমানবন্দর চালু করা কঠিন হবে না। তবে সবার আগে  উন্নতমানের একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে চাই, যাতে এলাকার মানুষ এখানেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পায়। হিন্দু-মুসলমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রুখে দিতে চেয়েছিল। তারা কখনোই দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না।

Source: https://mzamin.com/news.php?news=201949#gsc.tab=0