A huge funeral prayer for Arafat Koko at Baitul Mokarram

বায়তুল মোকাররমে কোকোর জানাজায় লাখো লোক

ntb

মঙ্গলবার আচরের পর ৫ রটা ১২ মিনিটে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আরাফাত রহমান কোকোর জানাজা হয়। এতে লাখো লোক শরিক হন। খতিব অধ্যাপক সালাহউদ্দিন জানাজায় ইমামতি করেন। আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ আসার আগেই মানুষে পূর্ণ হয়ে গেছে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম।
মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ ফটকের দুই সড়ক বেলা তিনটার দিকেই পূর্ণ হয়ে গেছে জনতার ভিড়ে। সাড়ে তিনটার দিকে পল্টন মোড় থেকে লম্বা এই মানুষের সারি পার হয়ে গেছে দৈনিক বাংলার মোড়।
মসজিদের দক্ষিণ ফটকেরও একই অবস্থা। মানুষ বঙ্গবন্ধু ও মওলানালা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম ছাড়াও গুলিস্তানের বকচত্বর পর্যন্ত অবস্থান নিয়েছেন।
এই মসজিদেই বাদ আসর আরাফাত রহমানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। নামাজ পড়াবেন মসজিদের খতিব মো. সালাহউদ্দিন। জানাজার নামাজের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সেখানে আগে থেকে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামীসহ বিএনপি জোটের সিনিয়র নেতারা। সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর
লাশ দাফনের জন্য বনানী কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে, গুলশান কার্যালয়ে মা খালেদা জিয়ার অশ্রুশিক্ত বিদায়ের পর আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বেলা পৌনে তিনটার দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দিকে রওনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়াতে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে মালয়েশিয়া থেকে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহবাহী বিমান বন্দর থেকে গুলশান অফিসে পৌছেছে বেলা পৌনে ২ টার দিকে। সকাল ১১ টা ৪১ মিনিটে বিমানটি ঢাকায় পৌছায়। বিএনপির ১৫ জন নেতাকে বিমানবন্দরে লাশ গ্রহনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দর থেকে গুলশান অফিসের দিকে রওয়ানা দেয়।

এদিকে গুলশান অফিসে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপি নেতরা জানিয়েছেন, বনানী সামরকি কবরস্থানে কোকোর লাশ দাফনের অনুমতি মিলেনি।
এর আগে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল আটটার দিকে মালয়েশিয়া এয়ার লাইন্সের বিমানটি কুয়ালালামপুর ছাড়ে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়া বিএনপির নেতা মাহবুব আলম শাহ।
তিনি জানান, আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ নিয়ে একটি ফ্লাইট কুয়ালালামপুর ছেড়েছে এবং দুপুর নাগাদ সেটি ঢাকা পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই ফ্লাইটে কোকোর স্ত্রী, দুই মেয়ে, মামা শামীম এস্কান্দার এবং খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু রয়েছেন বলে জানান বিএনপির এই নেতা।
বেলা সাড়ে ১১টায় কোকোর মরদেহবাহী কফিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। বিমানবন্দরে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ গ্রহণ করবেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন- দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
গতকাল সোমবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, কোকোর মরদেহ মালয়েশিয়া এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে (এমএইচ১০২) করে বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে।
এরপর বিমানবন্দর থেকে কোকোর মরদেহ বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে নিয়ে আসা হবে, যাতে করে তার মা (খালেদা জিয়া) ও আত্মীয়-স্বজনরা দেখতে পারেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখানে আসতে পারবেন না। শুধুমাত্র পারিবারিক সদস্যরাই এখানে কোকোর মরদেহ দেখতে পারবেন।
তিনি বলেন, বিকেল চারটার মধ্যে কোকোর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বাদ আসর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পরে কিছুক্ষণ সর্ব সাধারণের দেখার জন্য কোকোর মরদেহ বায়তুল মোকাররম মসজিদে রাখা হবে। শেষে বনানী সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফনের কথা রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘একজন সেনা কর্মকর্তার সন্তান হিসেবে ওখানে দাফন তার (কোকো) প্রাপ্য। আমরা লিখিতভাবে সেখানে দাফনের অনুমতি চেয়েছি। আশা করি, কোকোর মরদেহ আমরা সেখানে দাফন করতে পারব।’
এছাড়া মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার বাইরে আরাফাতের গায়েবানা জানাজা হবে। সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের এই জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরাফাতের মৃত্যুতে সোমবার থেকে বিএনপির তিন দিনের শোক পালন করছে। দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি অর্ধনমিত রয়েছে দলীয় পতাকা। নেতাকর্মীরা পরছেন কালো ব্যাজ।
এছাড়া এই তিন দিন সারাদেশের মসজিদে মসজিদে কোরআন খানি ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের উদ্যোগও নিয়েছে বিএনপি।
কুয়ালালামপুরে গত রবিবার আরাফাতের প্রথম জানাজা হয়েছে। ছোট ভাইয়ের জন্য সোমবার লন্ডনে গায়েবানা জানাজা পড়েছেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান।
গত শনিবার আরাফাত রহমান কোকো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়াতে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর।
স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও দুই মেয়েকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় সাত বছর ধরে থাকছিলেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে।

Source: AmarDesh

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *