চক্রান্তকারীরা এখনো সাম্প্রদায়িক ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে ধ্বংস করতে চায়

চক্রান্তকারীরা এখনো সাম্প্রদায়িক ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে ধ্বংস করতে চায়

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নানা ধরনের শক্তি এবং নানা ধরনের চক্রান্তকারীরা আমাদের সাম্প্রদায়িক ও ভ্রাতৃত্বের যে অটুট বন্ধন রয়েছে, সেই মেলবন্ধনকে ধ্বংস করার জন্য, ভেঙে দেওয়ার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আমরা প্রত্যেকেই হিন্দু-মুসলমান, খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ এবং বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায় এবং নৃগোষ্ঠী একসঙ্গে কাজ করি এবং একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেখানে অবস্থান করি এবং আমাদের সম্প্রীতি আমরা রক্ষা করি। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ধর্ম সম্প্রদায়ের তিনটি ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে। হিন্দু ধর্ম সম্প্রদায়, খ্রিষ্টান ধর্ম সম্প্রদায় এবং বৌদ্ধ ধর্ম সম্প্রদায়। আমরা বিশ্বাস করি যে ট্রাস্ট সরকার গঠন করেছেন, এই ট্রাস্টের মাধ্যমে তাদের সমস্ত দেবালয়, উপাসনালয়, যেখানে মানুষ তার আত্মিক মুক্তির জন্য যায়। সেই দেবালয়গুলো, সেই উপাসনালয়গুলো যাতে সমৃদ্ধিশালী হয় এবং সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় এবং পূজারীরা, ভক্তরা গিয়ে যাতে সুন্দরভাবে সেখানে প্রার্থনা করতে পারেন, আরাধনা করতে পারেন, সে বিষয়গুলো ট্রাস্ট দেখবে এবং ট্রাস্টের যারা সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারা সবাই সম্প্রদায়ের অত্যন্ত যোগ্য মানুষ, অত্যন্ত দক্ষ মানুষ এবং তারা এই বিষয়গুলো ভালোমতো দেখবেন, পর্যালোচনা করবেন এবং পরিচালনা করবেন।

তিনি বলেন, আমাদের এই মৃত্তিকার গভীরে রয়েছে আমাদের সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আমাদের ভ্রাতৃত্ব, আমরা একে অপরের সঙ্গে দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে প্রত্যেকেই একটি জাতিসত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। আর এই জাতিসত্তার একটা দার্শনিক রূপ দিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এই কাঠামোর মধ্যে, এই ডালির মধ্যে, এই একটি পাত্রের মধ্যে প্রতিটি ধর্ম সম্প্রদায়ের, প্রতিটি নৃগোষ্ঠীর প্রত্যেকেই আসন পেতে পারেন। প্রত্যেকেরই এখানে জায়গা রয়েছে। প্রত্যেকেই যেন গর্ব করে বলতে পারেন, আমরা বাংলাদেশি। এই গর্ব করে বলার দার্শনিক তত্ত্বটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিয়ে গেছেন।

রিজভী বলেন, আমরা একে অপরের পূজা অর্পণে, একে অপরের ঈদ মিলাদুন্নবীতে অংশগ্রহণ করি এবং উৎসবের আনন্দ ভোগ করি। সম্প্রতির এই অটুট বন্ধন যুগ যুগ ধরে থাকবে। একইসঙ্গে বন্ধন চর্চিত হবে, লালিত হবে এবং এ কারণেই আমরা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের দর্শন ধারণ করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখবো।

Source: https://www.dhakapost.com/politics/481198

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here