আমিরাতের ওপেক ত্যাগ নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে সৌদি

Amardesh

বাণিজ্য ডেস্ক

আমিরাতের ওপেক ত্যাগ নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে সৌদি

ইরান যুদ্ধ শুধু পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকেই বাধাগ্রস্ত করেনি, বরং এর ফলে সৌদি আরবসহ ওপেকভুক্ত দেশগুলো সেই সংকটের সময় ব্যবহৃত অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না। ফলে তেল সরবরাহ সংকটে বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি সৌদি আরব। এর পাশাপাশি ওপেক নিয়ে এক নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী যুবরাজ আবদুল আজিজ বিন সালমান। খবর রয়টার্সের।

গত বছর ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি গত সপ্তাহে হঠাৎ জোট ত্যাগের ঘোষণা দেয়। সৌদি আরবের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা ছিল দেশটির। এ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী সালমানের জন্য এই পরীক্ষা তৈরি হয়েছে।

রাশিয়াসহ কয়েকটি উৎপাদক দেশের জোট ওপেক প্লাসের প্রতিনিধিরা বলছেন, সালমানের কাজের ধরন গতানুগতিক ধীরস্থির কূটনীতি থেকে সরে এসে ইদানীং ক্রমবর্ধমানভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে।

রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউটের ফেলো জিম ক্রেন বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত বছরের পর বছর ওপেকের ভেতরে অস্বস্তিতে ছিল এবং তাদের উৎপাদন কোটা নিয়ে কখনোই ন্যায্য বিচার পায়নি। তাই এখন এর ফল ভোগ করার সময় এসেছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে গেলে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদন স্বাভাবিক হলে কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন একটি শক্তিতে পরিণত হবে, যাকে সৌদি যুবরাজ আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সৌদি সরকারি যোগাযোগ দপ্তর, সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

২০২০ সালে করোনা মহামারি-জনিত তেলের বাজার ধসের সময় এবিএস নামে পরিচিত যুবরাজ আবদুল আজিজ ঐতিহাসিক ওপেক প্লাস উৎপাদন হ্রাসের ক্ষেত্রে সর্বসম্মত চুক্তির ওপর জোর দিয়েছিলেন। এর ফলে টানা কয়েকদিন ধরে ম্যারাথন আলোচনা চলে, যেখানে একমাত্র অসম্মতি জানানো দেশ মেক্সিকোর উৎপাদন হ্রাসের একটি অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল।

যদিও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ওপেকের অস্তিত্ব এবং রাশিয়ার সঙ্গে এর জোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এই সংকট শেষ পর্যন্ত ঐক্যকে আরো শক্তিশালী করবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বছরের শুরুতে ইয়েমেনে রিয়াদ এবং আবুধাবি সমর্থিত বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। সাম্প্রতিক এসব ঘটনা ওপেকের অস্তিত্ব এবং রাশিয়ার সঙ্গে এর জোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

আবুধাবি উচ্চতর উৎপাদন কোটার দাবি জানালে ওপেকের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা তেল সংক্রান্ত বিরোধ ২০২১ সালেই চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পরই দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধির একটি চুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি মন্ত্রী সুহাইল আল-মাজরুই সেই সময়ে স্কাই নিউজ অ্যারাবিয়াকে বলেছিলেন, আরো অবিচার এবং ত্যাগ মেনে নেওয়া অযৌক্তিক—আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি।

হতাশা প্রকাশ করে এবিএস স্কাই নিউজকে বলেন, কিছুটা যুক্তিবাদ এবং কিছুটা আপস ওপেক প্লাসকে বাঁচাবে। ওপেক বৈঠকে তার ৩৪ বছরের অংশগ্রহণে এমন দাবি কখনো দেখেননি বলেও জানান তিনি।

২০১৯ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উৎপাদন কোটা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ ব্যারেল, যা জোটের অন্য যেকোনো সদস্যের চেয়ে বেশি। এর মধ্যে ২০২৩ সালের জুনে আমিরাতের লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়ানো হয়, যেখানে অ্যাঙ্গোলা এবং নাইজেরিয়ার কোটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক মাস পরই অ্যাঙ্গোলা জোট ত্যাগ করে।

আমিরাত তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ১৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করায় সৌদি আরব এই ছাড়গুলো দিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও গত মঙ্গলবার দেশটি জোট ত্যাগ করে। অবশ্য হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকা পর্যন্ত তেল বাজারের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রস্থান বা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এখন খুব একটা গুরুত্ব বহন করছে না।

যুদ্ধের কারণে ইরাক ও কুয়েত রপ্তানিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ওমান উপসাগরের মাধ্যমে কিছু সরবরাহ বজায় রাখতে পেরেছে। সৌদি আরব ১৯৮১ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় নির্মিত একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে তাদের রপ্তানির ৬০-৭০ শতাংশ লোহিত সাগরের দিকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

Source: https://www.dailyamardesh.com/business/amdpqjfb1r0zk

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here