- ২৪ ডেস্ক
দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক সহযোগিতার চেতনা ফুরিয়ে যায়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেখে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মনে করেন, এই শোকের মুহূর্তে প্রদর্শিত সংহতি সার্কের চেতনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা আঞ্চলিক ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নিতে এসেছিলেন বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা ও শ্রমমন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদ এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। এছাড়াও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, কর্মসংস্থান ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ এবং ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল উপস্থিত ছিলেন।
মালদ্বীপের মন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জানাজায় যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা প্রকৃত সার্কের চেতনারই প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘সার্ক এখনও বেঁচে আছে। সার্কের চেতনা এখনও জীবিত।’ শ্রীলঙ্কার মন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, দুঃখের সময়ে সবাই যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে সার্কের সক্রিয়তাই ফুটে উঠেছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গও সফররত অতিথিদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পাকিস্তানের সংসদীয় স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে আলাপকালে প্রফেসর ইউনূস জানান, নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি আবারও তার আগের পেশাগত জীবনে ফিরে যাবেন।
বৈঠকে ডাকযোগে ভোটদানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে প্রায় সাত লাখ প্রবাসী ভোটার ইতিমধ্যে নিবন্ধন করেছেন। শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী বিজিথা হেরাথ বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান।
সফররত বিশিষ্টজনেরা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। গণতন্ত্রের জন্য তার আজীবন সংগ্রাম এবং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদানের কথা তারা স্মরণ করেন। জানাজায় মানুষের ঢল দেখে তারা বিস্ময় প্রকাশ করলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এতে বোঝা যায় মানুষ তাকে কতটা সত্যিকারের ভালোবাসতেন।’
প্রফেসর ইউনূস দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সার্ককে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেন। তিনি অতীতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে সার্ক নেতাদের নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের চেষ্টার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সার্ক নেতাদের মধ্যে একটি মিলনমেলার আয়োজন করতে চেয়েছিলাম, এমনকি সেটা পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও।’









