জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সংস্কারের রোডম্যাপ সফল হলে দেরি না করে নির্বাচনী রোডম্যাপ দিতে হবে। কোনো ব্যর্থ নির্বাচন চাইছি না। আমরা সফল নির্বাচন চাইছি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ আমাদের সবার। কোনো দলের ও ব্যক্তির নয়। এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের। তাঁদের স্বার্থে যা করার দরকার সবই করতে হবে।’
কক্সবাজারে ডাকাতের হাতে নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিম সারোয়ার নির্জনের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সেখানে তাঁর পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘যে ডাকাতদল সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যায় জড়িত, তারা এক মাস আগে কারাগার থেকে জামিনে বের হয়েছে। এরপর তারা বিশাল একটি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। এ রকম আরও অনেকে কারাগার থেকে জামিন পেয়েছেন। সরকারকে এগুলো দেখতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুর্বলতা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।’
শেখ হাসিনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া কোনো ভালো জিনিস না। উনি চলে যাওয়ার পরে মাঝেমধ্যে টেলিফোনের কথা শুনতে পাই। আমার মনে হয় তিনি এখান থেকে সরে গেছেন, নিশ্চয়ই তিনি উপলব্ধি করেছেন দেশের মানুষ তাঁকে ভালোবাসে না।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘যেহেতু দেশের মানুষ তাঁকে (শেখ হাসিনা) ভালোবাসে না, জোর করে আবার নিজেকে স্থান করা বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে না বলে আমি মনে করি। তিনি যদি অপরাধী হন, কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তাঁকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
জামায়াত দুটি রোডম্যাপ চাইছে বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘রোডম্যাপের একটা সংস্কারের জন্য, অপরটি নির্বাচনের। সেই রোডম্যাপে নির্দিষ্ট হতে হবে কী কী বিষয়ে সংস্কার হবে এবং কত দিনের মধ্যে সংস্কার হবে। সংস্কারের রোডম্যাপ যদি সফল হয়, তাহলে দেরি না করে নির্বাচনী রোডম্যাপ দিতে হবে। প্রথমটা যদি সফল না হয়, তাহলে দ্বিতীয়টি ব্যর্থ হবে। কোনো ব্যর্থ নির্বাচন চাইছি না। একটা সফল নির্বাচন চাই।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আইন আমরা হাতে তুলে নেব না। কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। কে যড়যন্ত্র করছে না-করছে, এটা বড় কথা নয়। জাতি কিন্তু এখন ঐক্যবদ্ধ ও মজবুত।’
তানজীমের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর উপস্থিত সবাইকে নিয়ে মোনাজাত করেন শফিকুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তানজীমের বাবা সারোয়ার জাহান, মা শাহনাজ খান ও বোন তাসনুভা সারোয়ার সূচি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মো. রফিকুল ইসলাম খান, জেলা জামাতের নায়েবে আমির খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জেলা সেক্রেটারি হুমায়ুন কবীর, জেলা সহকারী সেক্রেটারি হোসনী মোবারক বাবুলসহ দলের বিভিন্ন নেতা-কর্মী।
গত সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজারের ডুলাহাজরা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় অভিযানের সময় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে নিহত হন লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার।
Ajker Patrika