সামরিক শক্তিতে বাংলাদেশের পেছনে, তবুও পাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান

কালবেলা ডেস্ক
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
এফ-১৬ মার্কিন যুদ্ধবিমানের বহর। ছবি : সংগৃহীত
এফ-১৬ মার্কিন যুদ্ধবিমানের বহর। ছবি : সংগৃহীত

সামরিক শক্তিতে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্সের সর্বশেষ তালিকায় ৩৫তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

তবে আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগেও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে গত দুই দশকে তেমন কোনো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান যুক্ত করতে পারেনি। অথচ সামরিক শক্তিতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোর অনেকেই এখন তাদের বাহিনীতে আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজন করছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে সামরিক র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা ফিলিপাইন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্সে ৪১তম অবস্থানে থাকা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পেতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ফিলিপাইনের কাছে ৫.৫৮ বিলিয়ন ডলারের মূল্যের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনকে এই যুদ্ধবিমান সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই চুক্তিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিমান যুক্ত হওয়ায় ফিলিপাইন এয়ার ফোর্সের ক্ষমতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে, সমুদ্রসীমায় নজরদারি, ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট মিশন পরিচালনা এবং শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা দমন করতে এফ-১৬ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এর আগে, ২০১৬ সাল থেকে ফিলিপাইন প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-১৬ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এরপর থেকেই ম্যানিলা ও ওয়াশিংটন প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

বিশেষ করে, ২০২২ সালে ফিলিপাইনের বর্তমান রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে দেশটি।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ গত সপ্তাহে ফিলিপাইন সফরে গিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন এবং ম্যানিলা একসঙ্গে কমিউনিস্ট চীনের হুমকির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

ফিলিপাইনের সামরিক প্রধান জেনারেল রোমিও ব্রাউনার বলেছেন, যদি চীন তাইওয়ান আক্রমণ করে, তাহলে ফিলিপাইন ‘অনিবার্যভাবে’ এতে জড়িয়ে পড়বে। অন্যদিকে, চীন কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ফিলিপাইনের এই অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত অঞ্চলটিকে ‘অস্ত্র প্রতিযোগিতার’ দিকে ঠেলে দিতে পারে।

মাটিতে থাকা যেকোনো চলমান বস্তুকেও নিশানা করতে সক্ষম এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশযুদ্ধে এটি অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান। প্রতি ঘণ্টায় ২৪১৪ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম এই বিমানটি ২১,২৮২ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে।

‘ফাইটিং ফ্যালকন’ নামের এই যুদ্ধবিমান ১৯৭৬ সালে উৎপাদনের অনুমোদন পায় এবং এর পর থেকে ৪,৬০০টিরও বেশি এফ-১৬ নির্মিত হয়েছে। যদিও মার্কিন বিমানবাহিনী এখন আর এটি কেনে না, তবে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশের সামরিক বাহিনী এখনো এটি ব্যবহার করছে।

বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও কার্যকর যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত এফ-১৬ পেয়ে ফিলিপাইন সামরিক শক্তিতে এগিয়ে যাবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—বাংলাদেশ কেন এখনো আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহে পিছিয়ে আছে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here