
যুক্তরাজ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ সপ্তাহে দেশটিতে পেট্রলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪৮ পাউন্ড। তবে ডিজেলের মূল্য গত বৃহস্পতিবারই রেকর্ড ১ দশমিক ৫১ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে।
গত নভেম্বরে যুক্তরাজ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য রেকর্ড উচ্চতায় ওঠে। এরপর মূল্য আবার কমে কিছুটা সহনীয় হয়।
জ্বালানির তেলের মূল্য রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার কারণে দেশটির মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এমনিতেই ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি ৩০ বছরের রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে ৫৫ লিটারের পারিবারিক গাড়ির তেল ভরতে ব্যয় দাঁড়াবে ৮১ দশমিক ৪১ পাউন্ড। এ পরিসংখ্যান চোখ কপালে ওঠার মতোই।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য আজ একবার ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে ওঠার পর আবার কমে ৯৪ ডলারে নেমেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ লেগে গেলে জ্বালানির তেলের মূল্য শিগগিরই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পূর্ণ গতিতে চলছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির তেলের সরবরাহ ইতিমধ্যে চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধ লেগে গেলে রাশিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হবে। তাতে পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত থাকলেও সেই হারে তেলের জোগান বাড়ানোর বার্তা এখনো দেয়নি তেল রপ্তানিকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক। সীমিত হারে উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বঘোষণাই কার্যকর করছে তারা। এর মধ্যে শুরু হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের ডঙ্কা নিনাদ। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির পূর্বাভাস, এ বছর বিশ্বে তেলের চাহিদা দিনে ৩২ লাখ ব্যারেল বেড়ে সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। সে ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তেলের জোগান বাড়িয়ে অনিশ্চিত বাজারকে কিছুটা শান্ত করতে পারে বলে মত তাদের।