মাঠ ছাড়েননি এমপির স্বজন বিএনপি নেতা

মাঠ ছাড়েননি এমপির স্বজন বিএনপি নেতা

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপেও প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন মন্ত্রী-এমপির স্বজন এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রোববার এ ধাপে ১১২ উপজেলায় ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আজ সোমবার প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে এ ধাপে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার।
এমপির স্বজনকে ভোটের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে নির্বাচন বর্জনের অংশ হিসেবে বিএনপি স্থানীয় নেতাকর্মীকে ভোটে না যেতে বলেছিল। এসব নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন দু’দলেরই স্থানীয় নেতাকর্মী। উল্টো এমপির প্রভাবে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এখানে এমপিপুত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর পর থেকে ২৭ মে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন। ২৯ মে এ ধাপে ভোট নেওয়া হবে। এ ধাপে তিন পদে মোট ১ হাজার ৫৮৮ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৭০, ভাইস চেয়ারম্যান ৬১৮ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৪০০ জন।

পাবনায় সরলেন বর্তমান চেয়ারম্যান
পাবনা অফিস জানায়, জেলার ভাঙ্গুড়ায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বাকী বিল্লাহ। তিনি স্থানীয় এমপি মকবুল হোসেনের ছেলে চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম হাসনাইন রাসেলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
গতকাল পাবনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বাকী বিল্লাহ বলেন, এমপি মকবুল হোসেন ও তাঁর ছেলে রাসেল রাজনীতি পরিবর্তন করে ফেলেছেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ওপর ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দিয়েও লাভ হয়নি। অব্যাহত নির্যাতনের কারণে কর্মী-সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমার পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না।

নরসিংদীতে মাঠ ছাড়েননি এমপির স্ত্রী
নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লার স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলাম উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রয়ে গেছেন। ফেরদৌসী মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও শিবপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

ফেরদৌসী ইসলাম সমকালকে বলেন, চেয়ারম্যান হয়ে আমি জনগণের সেবা করতে চাই। আমার স্বামী স্বতন্ত্র এমপি। ফলে নির্বাচন করতে আমার কোনো বাধা নেই। তবে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুল হক সোনা মিয়া মাস্টার এমপির স্ত্রী প্রার্থী থাকায় সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আর শিবপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্ত মেনে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।

বগুড়ায় ছেলে-শাশুড়ি সরলেও প্রার্থী এমপির শ্যালক
বগুড়া ব্যুরো জানায়, বগুড়ার শিবগঞ্জে জাতীয় পার্টির এমপি শরীফুল ইসলাম জিন্নাহর ছেলে ও শাশুড়ি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে শ্যালক ফিরোজ আহম্মেদ রিজু প্রত্যাহার করেননি। তিনি এ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান।

চট্টগ্রাম বিভাগে স্বজনরা সরেননি
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চেয়ারম্যান পদে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এখানে তিন প্রার্থীর মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলামের ভাতিজা আমিনুল ইসলাম তুষার রয়েছেন। আশুগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এদের মধ্যে বিএনপি নেতা সাবেক উপজেলা সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ রয়েছেন। অবশ্য তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত।

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের বড় ভাই সোহেল সরওয়ার কাজল। উখিয়া উপজেলায় মাঠে আছেন স্থানীয় এমপি শাহীন আক্তারের ভাই জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী।

লক্ষ্মীপুর সদরে চেয়ারম্যান পদে রয়ে গেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের ফুফাতো শালা। কুমিল্লায় ভোটের মাঠে রয়েছেন দেবিদ্বার উপজেলায় স্বতন্ত্র এমপি আবুল কালাম আজাদের ভাই মামুনুর রশিদ, মুরাদনগর উপজেলায় এমপি জাহাঙ্গীর আলম সরকারের ছেলে আহসানুল আলম কিশোর ও নাতি আল আমিন সরকার। আর ব্রাহ্মণপাড়ায় রয়েছেন এমপির ভাতিজা আবু তৈয়ব অপি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরকার জহিরুল হক মিঠুন।

খুলনায় রয়ে গেলেন বিএনপির সবাই
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি জানান, খুলনার ডুমুরিয়ায় বিএনপির তিন প্রার্থীই ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন। তারা হলেন চেয়ারম্যান পদে খুলনা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনিমুর রহমান নয়ন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী আবদুল হালিম ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শাহিনুর রহমান শাহিন।

সাটুরিয়ায় সরে দাঁড়ালেন বিএনপি প্রার্থী
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও জেলার সিনিয়র সহসভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ ফটো, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন এবং বিএনপি নেতা সোহরাব হোসেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগে মাঠে বিএনপি প্রার্থীরা
ময়মনসিংহের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ত্রিশালে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল ও বিএনপির সাবেক এমপি আবদুল খালেকের ছেলে আনোয়ার সাদাত ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন। নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জহিরুল আলম সোহাগ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বলে জানিয়েছেন।

রংপুর বিভাগে মাঠে বিএনপি-জামায়াতের ৫
রংপুর অফিস জানায়, রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রার্থী রয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য মোকাররম হোসেন সুজন এবং গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান লিপ্টন।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন বিএনপি নেতা মোকারম হোসেন। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হক শাহীন শিকদার ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে প্রার্থী রয়েছেন উপজেলা জামায়াতের সদস্য আবদুস সালাম সুজা।

সিরাজদীখানে সরলেন এমপিপুত্র
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে গতকাল এমপিপুত্রসহ তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি মহিউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে আনিসুর রহমান রিয়াদ, সাবেক সচিব কে এম তারিকুল ইসলাম রতন ও গোলাম মোস্তফা।

সিলেট বিভাগে আছেন কৃষিমন্ত্রীর ভাই
সিলেট ব্যুরো জানায়, গতকাল শেষ দিনে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে পাঁচ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে ১০ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন ৪৭ জন। বিয়ানীবাজারে নির্বাচন করছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বিএনপি নেতা জাকির হোসেন সুমন। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের ছোট ভাই আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
ছাতকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। দোয়ারাবাজারে নির্বাচন করছেন না আওয়ামী লীগ নেতা মো. চাঁন মিয়া।

samakal