কনটেইনার পরিবহন: আড়াই বছরে দ. এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশি জাহাজ কোম্পানি এইচআর লাইনস

jagonews24.com

ইকবাল হোসেনইকবাল হোসেন , নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারি ২০২৩

২০২০ সালের কথা। ওই বছরের জুন মাসে দেশের নিবন্ধন নিয়ে দুটি জাহাজ দিয়ে কনটেইনার পরিবহন শুরু করে এইচআর লাইনস। বাংলাদেশ প্রবেশ করে নতুন যুগে। এরপর কেটে গেছে আড়াই বছর। প্রতিষ্ঠানটির বহরে যুক্ত হয়েছে আরও ছয়টি জাহাজ। এই অল্প সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে কনটেইনারবাহী বাংলাদেশি এই জাহাজ কোম্পানি।

লাইনার শিপিং তথ্য বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আলফা লাইনারের সবশেষ (২৪ জানুয়ারি) তথ্য মতে, এইচআর লাইনস বর্তমানে শীর্ষ ১০০টি বৈশ্বিক কনটেইনার জাহাজ অপারেটরের মধ্যে ৭৪তম স্থানে রয়েছে। যেটা দক্ষিণ এশিয়ায় কনটেইনার জাহাজ কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান। প্রতিষ্ঠানটি সবশেষ নিজেদের বহরে ‘এইচআর তুরাগ’ ও ‘এইচআর বালু’ নামে দুটি জাহাজ সংযোজনের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন জাহাজ দুটি সংযোজন হলে প্রতিষ্ঠানটির কনটেইনার বহন সক্ষমতা বেড়ে ১১ হাজার ৮৪০ টিইইউ’স হবে। এইচআর লাইনস দেশের সমুদ্রগামী জাহাজ পরিচালনাকারী পুরোনো প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী লিমিটেডের মালিকানাধীন।

সমুদ্রগামী জাহাজের রাষ্ট্রীয় নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান নৌ-বাণিজ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, নৌ-বাণিজ্য দফতর থেকে এ পর্যন্ত ৯৫টি জাহাজ নিবন্ধন নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে ছয়টি কনটেইনার জাহাজ। যার সবগুলোই এইচআর লাইনসের। যে জাহাজগুলো বাংলাদেশি পতাকা বহন করছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের ২৮ মে নিবন্ধিত হয় ‘এইচআর সারেরা’। ৬ জুন নিবন্ধন পায় ‘এইচআর সাহারা’। ২০২১ সালের ১৬ জুন নিবন্ধন নেয় ‘এইচআর হেরা’ ও ‘এইচআর রেয়া’। এরপর ওই বছরের ২৮ অক্টোবর নিবন্ধিত হয় ‘এইচআর ফারহা’ এবং ‘এইচআর আরাই’। এইচআর লাইনসে যুক্ত হওয়া নতুন দুটি জাহাজ ‘এইচআর তুরাগ’ ও ‘এইচআর বালু’ নিবন্ধন নিলে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৯৭-এ।

নৌ-বাণিজ্য অধিদফতরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ জাগো নিউজ বলেন, বাংলাদেশে নিবন্ধন নিয়ে একমাত্র এইচআর লাইনস কনটেইনার জাহাজ চালাচ্ছে। তারা এ পর্যন্ত ছয়টি জাহাজ নিবন্ধন নিয়েছে। নতুন দুটি জাহাজ এরই মধ্যে তারা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ‘এইচআর তুরাগ’ যুক্ত করেছেন নিজেদের অপারেশনে। এটির নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন। তাছাড়া ‘এইচআর বালু’ও তারা নিয়েছেন। এটির নিবন্ধন প্রক্রিয়াও তারা শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা সমুদ্রগামী জাহাজের নিবন্ধন দেই। এ পর্যন্ত ৯৫টি জাহাজ নিবন্ধিত হয়েছে। এখন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় রয়েছে আরও কয়েকটি জাহাজ। আশা করছি আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমরা জাহাজ নিবন্ধনে শতক পূর্ণ করতে পারবো।

জানা যায়, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের সবই সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বোসহ তিনটি বন্দর হয়ে আসে যায়। এখানে এই তিনটি রুটে এইচআর লাইনস তাদের জাহাজগুলো পরিচালনা করে। ২০২০ সালের জুনে ‘এইচআর সারেরা’ ও ‘এইচআর সাহারা’ জাহাজ দুটি নিয়ে এইচআর লাইনস যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীসময়ে ২০২১ সালের মাঝামাঝিতে ‘এইচআর হেরা’ ও ‘এইচআর রেয়া’ এবং শেষ দিকে ‘এইচআর ফারহা’ ও ‘এইচআর আরাই’ যুক্ত হয় এইচআর লাইনসের বহরে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে, ‘এইচআর হেরা’ ও ‘এইচআর রেয়া’ বাংলাদেশ এক্সপ্রেস সার্ভিস (বিইএস) নামে চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর-পোর্ট কেলাং হয়ে চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করছে। সপ্তাহে একবার আসা যাওয়া করে জাহাজটি।

অন্যদিকে চিটাগাং কলম্বো এক্সপ্রেস (সিসিই) নামে চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে ‘এইচআর সাহারা’, ‘এইচআর সারেরা’, ‘এইচআর ফারহা’ এবং ‘এইচআর আরাই’ চলাচল করছে।

বর্তমানে এইচআর লাইনস কনটেইনার জাহাজ পরিচালনা করছে একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে। তথ্য অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের নিয়োজিত কনটেইনারের মধ্যে ৮ শতাংশ পরিবহন করছে এইচআর লাইনস। নতুন করে যুক্ত ‘এইচআর তুরাগ’ ও ‘এইচআর বালু’ দুটি সরাসরি চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর এবং চট্টগ্রাম-কলম্বে রুটে চলাচল করবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ‘এইচআর তুরাগ’ ১১শ টিইইউ’স এবং ‘এইচআর বালু’ ১৭শ টিইইউ’স কনটেইনার পরিবহনে সক্ষম।

কর্ণফুলী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এইচআর লাইনসের পরিচালক হামদান হোসেন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, মাত্র ৩০ মাস আগে আমরা দুটি জাহাজ দিয়ে কনটেইনার পরিবহন সার্ভিস শুরু করেছিলাম। এখন এইচআর লাইসের বহরে আটটি জাহাজ হয়েছে। আমাদের সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমরা আরও জাহাজ বাড়াবো। তাছাড়া আমাদের জাহাজগুলো বাংলাদেশে নিবন্ধিত। বাংলাদেশের পতাকা বহন করে সমুদ্রে যাওয়াও গর্বের। তাছাড়া সমুদ্রগামী জাহাজে যত বাংলাদেশি পতাকা বাড়বে, তত বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। নতুন কর্মসংস্থান হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এ অঞ্চলের (দক্ষিণ এশিয়া) প্রধান ফিডার অপারেটর। এটা অত্যন্ত গৌরবের। পাশাপাশি আমরা ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টগুলোতে আমাদের ফিডার সার্ভিস সেবার মান আরও উন্নত করছি। ক্লায়েন্টদের সেবার প্রত্যেকটি প্যারামিটারে আমরা উন্নতি করছি। আমরা চাই, এখন বাংলাদেশে যত কনটেইনার পরিবাহিত হচ্ছে তার ৫০ শতাংশের অংশীদার হতে।

ইকবাল হোসেন/এএসএ/এএসএম