
ফ্যাসিবাদি ডিজিটাল জালিয়াতদের কাণ্ড। আমার দেশ অনলাইনে সম্পাদক এবং নিয়মিত লেখকদের লেখার সাথে লোগোসহ প্রকাশের জন্য তৈরি করা ছবি। এই ছবিসহ লেখা গুলো নিয়মিত প্রকাশিত হয়। আমার দেশ-এর সম্পাদকসহ নিয়মিত লেখকেদর লেখা চুরি করে হুবহু তারা প্রকাশ করে এবং আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে।
ইউকে থেকে প্রকাশিত আমার দেশ অনলাইন পত্রিকাটি থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ডিজিটাল জালিয়াতি ও অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে বারবার আক্রমন করা হচ্ছে আমার দেশকে। থেমে থেমে বিভিন্ন অপকৌশল নিয়ে ফ্যাসিবাদি সরকার হাজির হয় ডিজিটাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে। সেই অপচেষ্টার অংশ হিসাবে গত ৮ ডিসেম্বর আবারো ভুয়া ওয়েবসাইট বানিয়ে আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে হোষ্টিং কোম্পানীর বরাবরে। আক্রমনকারীর ঠিকানায় এবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। নূতন অভিযোগকারীর নাম শহিদ উদ্দিন খান। ঠিকানা দেখানো হয়েছে ভারতের মুম্বাই শহরে। পুরো ঠিকানাটি হচ্ছে-Address: 54, Super Market, Mongibai Rd, Near Rly Stn, Vile Parle(e), Mumbai, Maharashtra, 400057, India. ওয়েবসাইটের নাম- https://asthanow.net/2020/11/10/jamat-sibir-bnp-boycott/
টেলিফোন নম্বর- ০১১-২৮০৩২৪৯৬. যদিও এই নাম্বারের কোন অস্তিত্ব আদৌ আছে কি না সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ বারবার চেষ্টা করেও এই নম্বরে টেলিফোন যাচ্ছে না। উল্লেখিত ঠিকানাও ভুয়া।
যেভাবে ভুয়া অভিযোগ তৈরি করা হয়:
এবারের অভিযোগ আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের লেখা সম্পাদকীয় নাকি তাদের উল্লেখিত ওয়েবসাইট থেকে কপি করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, মাহমুদুর রহমান এই লেখাটি তাদের ওয়েবসাইটে (https://asthanow.net/2020/11/10/jamat-sibir-bnp-boycott/) লিখেছিলেন। দাবী করেছেন ১০ নভেম্বর (২০২০) এটি প্রকাশ করা হয়েছিল তাদের ওয়েবসাইটে। এই লেখাটি আবার ১ ডিসেম্বর আমার দেশ অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। যেটাকে তারা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন বলে দাবী করছেন। আমার দেশ-এর লোগোসহ ছবিও তারা হুবহু ব্যবহার করেছে।
এটি মূলত আমেরিকার নির্বাচন পরবর্তী কিছু প্রসঙ্গ নিয়ে লিখেছিলেন সম্পাদক। মজার বিষয় হল লেখাটির প্রথম প্যারায় দ্বিতীয় বাক্যটি হচ্ছে–‘এ কথা সর্বজনবিদিত যে, গত মাসের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারত এবং বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন শাসকশ্রেণি মনেপ্রাণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন। চার বছরের শাসনামলে ট্রাম্প একনায়কদের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা দেখিয়েছেন।’ এখানে প্রশ্ন তারা ১০ নভেম্বর এটা প্রকাশ করেছে। নভেম্বরের আগের মাস হচ্ছে অক্টোবর। নির্বাচন তো আর অক্টোবরে হয়নি। জালিয়াতদের মাথায় এই বিষয় গুলোও নাই।
তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড দেখিয়ে আমার দেশ-এর হোষ্টিং কোম্পানীর কাছে নালিশ পাঠিয়েছে কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসাবে। প্রকৃত পক্ষে আমার দেশ অনলাইনের ইন্টিলেকচ্যুয়াল প্রপার্টিকে তারা চুরি করেছে। এই চোরই আবার উল্টা আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে নালিশ করছে।
আরো মজার বিষয় হচ্ছে অভিযোগকারীর ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখা যায় তারা আমার দেশ-এর আরো একটি উপ-সম্পাদকীয় তাদের এখানে হুবহু আপলোড দিয়ে রেখেছে। হয়ত: এটি দিয়ে পরবর্তী আক্রমনের প্রস্তুতি চলছে। এটি হচ্ছে আমার দেশ-এর নিয়মিত লেখক পিনাকী ভট্টচার্যের লেখা। এটি আমার দেশ-এ প্রকাশিত হয়েছিল গত ১১ নভেম্বর। শিরোনাম-রক্ষী বাহিনী: বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ঘৃনিত নাম। তাদের এখানে দেখা যাচ্ছে ২০১৭ সালে মে মাসে এটা আপলোড দেয়া। অথচ ব্যবহৃত ছবিটি আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রকাশনার জন্য তৈরি করা। ছবিতে আমার দেশ-এর জলছাপও রয়েছে। রয়েছে আমার দেশ-এর নিজস্ব লোগো।
আরেকটি মজার বিষয় দেখা গেছে ওয়েবসাইটে ঢুকে। গত ১০ ডিসেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। এই মানবাধিকার দিবসে জামায়াতে ইসলামীর আমির একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ওয়েবসাইটে সেটা প্রকাশিত হয়েছিল। হুবহু সেই বিবৃতি আপলোড করা আছে ৫ ডিসেম্বর (২০২০) তারিখ দেখিয়ে। ১০ ডিসেম্বরের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে প্রকাশিত বিবৃতি এই ( https://asthanow.net/2020/11/10/jamat-sibir-bnp-boycott/) ওয়েবসাইটে ৫ ডিসেম্বর কিভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তারা জালিয়াতি কত রকমের করতে পারে এই বিষয় গুলো থেকেই স্পষ্ট।
প্রকাশনার শুরু থেকেই আক্রান্ত আমার দেশ:
গত ৩০ অক্টোবর আমার দেশ ইউকে অনলাইনের প্রকাশনা শুরু হয়। প্রকাশের ১২ ঘন্টার মধ্যেই ফ্যাসিবাদী সরকারের রাষ্ট্রীয় আক্রমনের টার্গেটে পরিণত হয় আমার দেশ। ফ্যাসিবাদী সরকার জনগণের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি’র (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন) মাধ্যমে পত্রিকাটির ডাউনলোড সিস্টেম ব্লক করে দেয় বাংলাদেশে। অর্থাৎ পত্রিকাটি যাতে বাংলাদেশ কেউ ডাউনলোড এবং পাঠ করতে না পারেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই ব্যবস্থা নেয়া হয় প্রথম ১২ ঘন্টার মধ্যেই। প্রকাশের ১২ ঘন্টা পর থেকে বাংলাদেশে পত্রিকাটি আর কেউ সরাসরি ডাউনলোড করতে পারছেন না। তবে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিকল্প ব্যবস্থা ভিপিএন ব্যবহার করে দেখা যাচ্ছে। যারা ভিপিএন ব্যবহার জানেন, কেবল তারাই পত্রিকাটি পাঠ করতে পারেন বাংলাদেশে।
প্রথম দিনের এই আক্রমনের পর শুরু হয় ডিজিটাল জালিয়াতি। উপরে উল্লেখিত ডিজিটাল জালিয়াতির ন্যায় বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আমার দেশ-এর ইন্টিলেকচ্যুয়াল প্রপার্টি (নিজস্ব লেখকদের লেখা) কপি করে পুরাতন তারিখ বসিয়ে হোষ্টিং কোম্পানীর কাছে কপি রাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ শুরু করা হয়। অভিযোগকারীর ঠিকানা কখনো ব্যবহার করা হয় আমেরিকায়, কখনো ব্যবহার করা হয় বাংলাদেশে ঢাকার মিন্টোরোড কাউন্টার টেররিজমের অফিস। এনিয়ে বিস্তারিত আমার দেশ-এ একাধিক শীর্ষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
পত্রিকার ওয়েবসাইট থামিয়ে দিতে নানামুখি অপতৎপরতার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদিরা আমার দেশ-এর ফেইসবুক পেইজেও নানা রকম আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আমার দেশ পেইজের অ্যাডমিনের বিরুদ্ধে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন ভুয়া নালিশ করা হচ্ছে। এতে একাধিকবার অ্যাডমিন ব্লক করেছে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ।
এই নানামুখি আক্রমন মোকাবেলা করেই আমার দেশ দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকার সুরক্ষার তাগিদে আমার দেশ ৯০ শতাংশ মানুষের মূল্যবোধকে ধারণ করে। ফ্যাসিবাদিরা আমার দেশ-এর ইন্টিলেকচ্যুয়াল প্রপার্টিকে বুদ্ধি দিয়ে মোকাবেলা করার সাহস রাখে না। তাদের মূখপত্র হিসাবে রয়েছে অসংখ্য টেলিভিশন চ্যানেল এবং পত্রিকা ও অনলাইন। তারপরও সত্য প্রকাশে অবিচল আমার দেশকে তারা সহ্য করতে পারে না এক মুহূর্ত। তারা লেখার জবাব লেখা দিয়ে দেয়ার মত সাহস এবং যোগ্যতা রাখে না। তাই ভিন্নপথে আমার দেশকে থামিয়ে দিতে চায়। যুক্তির পরিবের্ত শক্তি দিয়ে আমার দেশ-এর কন্ঠরোধ করতে চায় এই ফ্যাসিবাদিরা।