গ্যাস সংকট
‘আমরা আর ইন্ডাস্ট্রি করতে ইন্টারেস্টেড না’
শিল্পায়নের জন্য বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ গ্যাসের দাম ও সরবরাহ সংকট। জ্বালানির দাম বাড়ালে দেশে আর শিল্প কারখানা হবে না বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে তারা এ কথা বলেন।
এদিকে, জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, গত ১৫ বছরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কোনো চেষ্টাই করা হয়নি।
দেশে গ্যাসের দাম প্রায় দেড়গুণ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। নতুন শিল্পের জন্যে ১৫০ শতাংশ আর সম্প্রসারণে ৫০ শতাংশ জ্বালানি দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এমন উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। এমন অবস্থা চললে, এদেশে আর শিল্প কারখানা না করার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও ইকোনমিক রিপোর্টারস ফোরামের সেমিনারে ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শিল্পখাতের জন্য আত্মঘাতী। এর চাপ নিতে পারবে না উদ্যোক্তারা। বর্তমান সরকার শিল্পে জ্বালানি নিরাপত্তা দিতে পারেনি বলেও অভিযোগ তাদের।
পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘আমার ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথের যে চাকাটা, এটাকে ধরে রাখার জন্য কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন ও অ্যাফোর্ডেবল এনার্জি প্রয়োজন। আমার ম্যাক্রো স্ট্যাবিলিটি এটার সাথেও কিন্তু এনার্জির একটা বড় সম্পর্ক আছে।’
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘এক্সপানশনের জন্য ৫০ ভাগ বাড়ানো হবে। থ্যাংকস টু দ্যা গভর্নমেন্ট, যে তারা এ ধরনের অ্যানাউন্সমেন্ট এখন করেছে। কারণ আমরা কেউ আর ইন্ডাস্ট্রি করতে ইন্টারেস্টেড না। এবং এটা হবে না। বাংলাদেশে আর কোনো ইন্ডাস্ট্রিই আর হবে না।’
এমন পরিস্থিতিতে দেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় জানান বিশেষজ্ঞরা। দেশের অর্থনীতি ধরে রাখতে হলে গ্যাসের দাম বর্তমানের চেয়ে কমানো দরকার বলেও মত তাদের।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের গ্যাস সাপ্লাই কমছে। এটা সাংঘাতিক ডেঞ্জারাস। আমাদের যে বিবিয়ানা যেটার ওপর আমরা ৫০ ভাগ নির্ভর করি, ওইটাও অনেক পুরাতন ফিল্ড। বুড়ো হয়ে গেছে।’
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘পুরোনো পলিসিতে আছে প্রতিবছর ৪টি করে কূপ খনন করার জন্য। আমরা যদি চারটি কূপও প্রতিবছর খনন করতাম কতগুলি কূপ হতো। আমরা গত ১৫ বছরে এক্সপ্লোরেশনে তেমন কিছুই খরচ করিনি।’
ভোলার গ্যাস ঢাকায় নিয়ে আসলে আগামী ৩ বছরের জন্য সরবরাহ সংকট কিছুটা কমবে বলে জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান।