আবারও রাজপথে মুখোমুখি আ.লীগ-বিএনপি

আবারও রাজপথে মুখোমুখি আ.লীগ-বিএনপি.

আড়াই মাস পর ফের রাজপথে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দু’দল কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে। শনিবার আওয়ামী লীগ শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ এবং বিএনপি কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচির মাধ্যমে রাজধানীতে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন শেষে দু’দলের এই প্রথম কর্মসূচি ঘিরে সব মহলে সৃষ্টি হয়েছে কৌতূহল।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামীকাল ঢাকাসহ মহানগরগুলোতে কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি ও তার মিত্ররা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের প্রতিবাদ এবং কারাবন্দি নেতাকর্মীর মুক্তি, সংসদ বাতিল ও সরকারের পদত্যাগ দাবিতে দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি। এ ছাড়া আজ শুক্রবার সারাদেশে জেলা পর্যায়ে কালো পতাকা মিছিল হবে।

অন্যদিকে শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ব্যানারে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ হবে। এর আগে সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচি ছিল। ওই দিন সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনসহ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির মহাসমাবেশের কর্মসূচির বিপরীতে আওয়ামী লীগ বিশাল শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করেছে। তবে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির ওই মহাসমাবেশ ঘিরে ব্যাপক নাশকতা, সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াও হয়। প্রধান বিচারপতির বাসভবন এবং পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। হামলায় একজন পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। বিএনপির মহাসামবেশ পণ্ড হয়ে যায়।

এর পর থেকে কয়েক দফা হরতাল-অবরোধের ডাক দিলেও ব্যাপক ধরপাকড়, মামলা ও নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের মধ্যে বিএনপি আর মাঠে নামতে পারেনি। বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মুখে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ভোটের আগে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে মাসখানেক বিএনপি ও তার মিত্ররা লিফলেট বিতরণ করেছে। নির্বাচনের পর কিছুদিন বিএনপির লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখলেও পাল্টা কর্মসূচি নেয়নি সরকার সমর্থকরা।

ব্যাপক শোডাউন করতে চায় আওয়ামী লীগ
রাজধানীতে বড় শোডাউন করার জন্য আওয়ামী লীগ মহানগরের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে নেতাকর্মীকে সমবেত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীকেও সমাবেশে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। মহানগরীর সরকারদলীয় এমপি ও জনপ্রতিনিধিদেরও সমাবেশে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শান্তি সমাবেশ ছাড়াও বিএনপির কালো পতাকা মিছিলকে ঘিরে যে কোনো ধরনের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ঠেকাতে মহানগরের সর্বত্র সতর্ক অবস্থানে রাখা হবে নেতাকর্মীকে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, আন্দোলন ও নির্বাচন বানচালে ব্যর্থ বিএনপি এবং তার জোট এখনও সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এ জন্যই বিএনপি কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে। তবে কোনো সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়া মাত্রই তা মোকাবিলায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকবেন।

শান্তি সমাবেশ সফল করতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর সংগঠন কার্যালয়ে বর্ধিত সভা করেছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় সভায় মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি নুরুল আমিন রুহুল, সাজেদা বেগম, হাজি শহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির, দপ্তর সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন রিয়াজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আজ শুক্রবারও থানা ও ওয়ার্ডগুলোতে অনুরূপ বর্ধিত সভার কর্মসূচি রয়েছে।

নেতাকর্মীর মনোবল চাঙ্গা করতে চায় বিএনপি
আন্দোলনের মাধ্যমে নেতাকর্মীর মনোবল চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার জেলা পর্যায়ে এবং আগামীকাল ঢাকাসহ মহানগর পর্যায়ে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট।

রাজপথের এই কর্মসূচি ঘিরে বিএনপিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ঢাকায় বড় জমায়েত ঘটাতে কাজ চলছে। কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন নেতারা। প্রতিটি ইউনিট নেতাকর্মীকে পৃথকভাবে দেওয়া হয়েছে দিকনির্দেশনা। এই কর্মসূচি পালনে অনুমতি মিলেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, শনিবার দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে কালো পতাকা মিছিল করার বিষয় জানিয়ে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছিলেন তারা। মৌখিকভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার সমকালকে বলেন, বিএনপির যে কোনো কর্মসূচিতে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটে। কোনো বাধাবিঘ্ন না থাকলে সাধারণ জনগণও অংশ নেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। তিনি বলেন, ‘পাতানো’, ‘ডামি’ আর ‘একতরফা’ নির্বাচনের পরও আওয়ামী লীগ আতঙ্কে আছে।

সমকাল