মুক্তিযোদ্ধা কোটা একটা ফালতু আর সস্তা রাজনৈতিক ভাওতাবাজি

মুক্তিযোদ্ধা কোটা একটা ফালতু আর সস্তা রাজনৈতিক ভাওতাবাজি

তাজ হাশমী    7 October 2018

 

বেপরোয়া স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার ইদানিং বেশ বেকায়দায় পড়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই I দেশে-বিদেশে সর্বত্র এই অবৈধ সরকার অবৈধ সন্তানের চাইতেও বেশি অপাঙতেও, পরিত্যাজ্য, ও অবজ্ঞার বস্তু I কিভাবে এই সরকারের আরো বহুদিন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে বাংলাদেশের মানুষকে উন্নয়ন আর শান্তির কথা বলে কি ভাবে শোষণ আর লুন্ঠন করা যায়, এটাই হাসিনা সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য I আর এই উদ্দেশ্য কার্যকর করার জন্য এই অবৈধ সরকারের সহযোগী শ্রেণী তৈরি করা একান্তই অপরিহার্য্য I একদিকে হাসিনা যেমন শিক্ষিত জ্ঞানপাপীদের তুষ্ট করতে চায়, তেমনি সে অর্ধ-শিক্ষিত লুটেরা, লুম্পেন, ও সর্বহারাদের দলে ভেরাতে তৎপর I তাই  মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান আর নাতি-পুতিদের জন্য সরকারি চাকুরীতে ৩০% কোটা সৃষ্টি করে সবাইর জন্য সমান সুযোগ বা equal-opportunity  সৃষ্টি করার নামে এক  দুরভিসন্ধি নিয়ে হাসিনা মাঠে নেমেছে নতুন সহযোগী শ্রেণী তৈরী করার জন্য I   ইতোমধ্যে হাসিনা লুম্পেন ও ১০০% ভাগ দুর্নীতিগ্রস্থ, চরিত্রহীন, ও আত্মসম্মান বিবর্জিত  বামপন্থীদের দলে টানতে সক্ষম হয়েছে I একদিকে রাশেদ খান মেনন, ও হাসানুল হোক ইনুর মতো দানবেরা এখন মনোযোগ সহকারে হাসিনার স্যান্ডেলের তলা চাটতে মহা ব্যস্ত, অপরদিকে ইদানিং ধর্ম-ব্যবসায়ী হেফাজতে ইসলামের মুফতি শফির মতো অতি লোভী, নীতি ও ধর্ম বিবর্জিত লোকেরাও তার স্যান্ডেল  চাটার কাজে নিয়োজিত I তাই বাংলাদেশ এখন দুর্নীতি, অবিচার, অন্যায়, আর লুট-পাটের এক অভয়ারণ্য! এ ব্যবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে, যেমন এই স্বৈরচারী অবৈধ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করা আজ সকল বাংলাদেশিদের জন্য এক পবিত্র দায়িত্ব I

 

এখন দেখা যাক তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবস্থার গলদ কোথায় I আমরা জানি সমাজে দুর্বল, প্রান্তিক বা সমান সুযোগ ভোগে অপারগ জনগোষ্ঠীকে সব দেশেই কিছু বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় I পশ্চিমের ধনি দেশগুলো যেমন প্রান্তি জনগণকে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে, তেমনি অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কোটা ব্যবস্থা রয়েছে I পার্শবর্তী দেশ ভারতে যেমন বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্যও কোটা রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেও অনেক ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা বিদ্যমান I এমনকি স্বাধীনতা পূর্ব যুগে পূর্ব পাকিস্তানিদের জন্য সরকারের সব চাইতে বড় চাকুরী গুলোর জন্য কোটা ব্যবস্থা ছিল I অনেক বাঙালি সেই কোটা ব্যবস্থার জন্য CSP , PFS , বা  পুলিশ সার্ভিস-এর বড়-বড় চাকুরী লাভ করেছেন I তাই আমি কোটা ব্যবস্থার একজন বড় সমর্থক I  আমি চাই বাংলাদেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠী আরো বহুদিন কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি বা বেসরকারি চাকুরীতে যোগদান করুক I  যতদিন তারা সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণের সমকক্ষতা অর্জন না করে, ততদিন কোটা ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন করা উচিত নয় I

 

তবে শেখ হাসিনা ও তার দালালেরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার দুরভিসন্ধি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের জন্য যে উদ্ভট কোটা ব্যবস্থার কথা বলছে, সেটা যাতে কোনোভাবেই, কোননামেই চালু করা না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে I এই দুরভিসন্ধিমূলক কোটা ব্যবস্থার কবর রচনা করা অপরিহার্য I

 

এখন দেখা যাক, মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের জন্য কোটা ব্যবস্থার বিরোধিতা কেন ? যে যাই বলুক, বাংলাদেশের স্বাধীনতা  যুদ্ধের যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করেছিল, তারা সবাই কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা I হাতেগোনা সর্বোচ্চ ৫% বাঙালি ছাড়া শতকরা ৯৫ জন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক i আর যারা সক্রিয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, তাদের সংখ্যা (১৯৭৫ সালের পরিসংখ্যা মতে) ৫০,০০০ এর বেশি ছিল না i আর এই ৫০,০০০ এর অধিকাংশই ছিল গ্রাম-বাংলার কৃষক আর খেতে খাওয়া মানুষের সন্তান i ১৯৭১ সালে যে মুক্তিযোদ্ধার বয়স ছিল ১৬ বছর, এখন সে ১৬+৪৭=৬৩ বছর বয়সী বৃদ্ধ i মাথাপিছু একজন মুক্তি যোদ্ধার যদি ৪ জন সন্তান হয়, তাহলে মুক্তি যোদ্ধাদের সন্তানদের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই লক্ষে i আর তাদের গড় বয়স হবে কমপক্ষে ৩০ বছর i আর যদি আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিদের কথা চিন্তা করি, তাহলে তাদের বন্যা হবে বড়োজোর ৫০,০০০ i ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা সরকারি চাকুরীতে যোগ দেয়ার বয়স-সীমা অতিক্রম করেছে i এখন যদি তাদের নাতি-পুতিদের কথা বলি, ধরে নেয়া যাক কোনো এক তেলেসমাতি জোরে তাদের সংখ্যা ৫০,০০০ নয় বরং দুই লক্ষ, তাহলে হাসিনা আর তার অর্বাচীন দালালদের মতানুযায়ী এই দুই লক্ষ নাতি-পুঁতির জন্য সরকারি চাকুরীতে ৩০% কোটা রাখতে হবে i ভালো কথা, আমরা নাহয় তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে দিলাম! কিন্তু ১৭ কোটির দেশে দুই লক্ষ লোকের জন্য ৩০% চাকুরী গণিতশাস্ত্রের কোন বিধান মতে দেয়া যেতে পারে , এটা কাউকে না কাউকে তো জিজ্ঞেস করতেই হবে, নয় কি? আমিই না হয় এটা জিজ্ঞেস করে ফেলি, কি বলেন আপনারা?!

 

আরেকটা কথা না বললেই নয়! মুক্তিযুদ্ধ করা কি দেশের  নাগরিকদের জন্য এক অপরিহার্য / অবশ্যকরণীয় দায়িত্ব নয়? কারো বাড়িতে ডাকাত পড়লে, সে বাড়ির সবল/সাহসী মানুষদের কি ডাকাতের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা উচিত নয়? আর ডাকাতদের মেরে-কেটে তাড়িয়ে দেয়ার পর যারা ওই ডাকাতদের হত্যা করেছে বা তারুয়া দিয়েছে তারা কি বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের এটা বলতে পারে যে : “আমরা ডাকাতের  বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে তোমাদের জান-মাল-ইজ্জত রক্ষা করেছি, তাই এখন থেকে মাছের মাথাটা, আর মুরগির রানটা শুধু আমরা খাবো i আমাদের খাবার পরে কিছু বাঁচলে তোমরা খাবে”!?

 

এই কথা  বলেই আমার কথা শেষ করছি i শেষ করার আগে বলছি বাংলাদেশিদের এই ফ্যাসিস্ট , অবৈধ, খুনি, ডাকাত হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে হবে i মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের কোটার মাধ্যমে চাকুরী দেয়ার পরিকল্পনা আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ আর তাদের সহচর  গুন্ডা,চোর, ডাকাতদের অবাধে সরকারি চাকুরীতে ঢুকানোর এক মহা পরিকল্পনা মাত্র i আপনার, আমার, সবাইর নৈতিক দায়িত্ব এই অবৈধ জালিম হাসিনা সরকারের এই দুরভিসন্ধি নস্যাৎ করা, আর এই সরকারের উৎখাত করার ব্যবস্থা করা i ১৭ কোটি মানুষ আর বিশ্ববাসী আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে i আমাদের জয় অবধারিত!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *