- ২৪ ডেস্ক
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় শোক পালন উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই নির্দেশনা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
শরিফ ওসমান হাদির জানাজার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেলা দুইটায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের ভারী ব্যাগ বা বস্তু বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমানে শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের দাবি ও ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দিয়ে জুলাই গণজাগরণের এই অকুতোভয় বীর শহীদকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি হামলার শিকার হন। সে সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তীতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর সংবাদ ঢাকায় পৌঁছালে কারওয়ান বাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।









