- ২৪ ডেস্ক
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই নির্বাচন ও গণভোটকে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি নির্বাচন, জুলাই জাতীয় সনদ, বিচার ব্যবস্থা এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নাগরিকদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনের দিনই এই সনদের ওপর গণভোট আয়োজন করা হবে। জনগণ হ্যাঁ অথবা না ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে তাদের মতামত জানাবেন। ভোটের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে নতুন বাংলাদেশের চরিত্র, কাঠামো ও অগ্রযাত্রার গতিপথ। প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেন যে, সরকার একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, ভোটকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা মনে না করে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে নিজেদের মালিকানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে। যারা ভোট ডাকাতি বা বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করতে তিনি দেশবাসীকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন।
জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। পলাতক শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করতে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বেশ কিছু পুরোনো আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও গণতান্ত্রিক পথচলার ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা জানান, গুরুতর আহত হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। সরকার ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই ষড়যন্ত্রে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ও তাদের দোসররা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তরুণ সমাজের সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের তরুণদের রক্ষা করুন। তাহলে আমরা সবাই এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষা পাবে।’ তিনি মন্তব্য করেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি তরুণ যোদ্ধাদের তাদের পুনরুত্থানের পথে বড় বাধা মনে করে। তাই নির্বাচনের আগে চোরাগোপ্তা হামলা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে তারা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। তবে প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ভয় দেখিয়ে বা রক্ত ঝরিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। আগামী দুই মাস সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।









