মূল অভিযুক্ত ফয়সালের পলায়নে সহায়তা, বাবা-মা গ্রেপ্তার

24 Live Newspaper

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের পলায়নে সহায়তা করার অভিযোগে তার বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। অন্যদিকে, নরসিংদী থেকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত সন্দেহভাজন অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে জানান, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১০। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) এবং মা মোসা. হাসি বেগম (৬০)। পরবর্তীতে তাদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার পর শুটার ফয়সাল আগারগাঁওয়ে তার বোন জেসমিন আক্তারের বাসায় গিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করে। সেখানে সে একটি ব্যাগে করে কিছু জিনিস নিয়ে যায়, যা পরে ওই বাসার চিপা দিয়ে ফেলে দেয় এবং ভাগনে জামিলের মাধ্যমে আবার সংগ্রহ করে। নিজের অবস্থান নিরাপদ মনে না করায় সে আগারগাঁও থেকে মিরপুর এবং পরে শাহজাদপুরে আত্মীয়ের বাসায় যায়। এ সময় তার বাবা হুমায়ুন কবির ছেলের পলায়নের জন্য সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং আর্থিক সহায়তা করেন। এ ছাড়া ফয়সাল তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন বোনের বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেয় এবং অন্যটি মায়ের কাছে জমা দেয়। পরে তার বাবা-মা জুরাইন থেকে নতুন সিম কিনে কেরানীগঞ্জে ছোট ছেলের বাসায় আশ্রয় নেন।

এদিকে নরসিংদী সদর থানার তরুয়া এলাকার মোল্লার বাড়ির সামনে তরুয়া বিলে পানির নিচ থেকে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১১। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, একটি খেলনা পিস্তল এবং ৪১ রাউন্ড গুলি। র‍্যাব জানায়, এই অভিযানের সময় মো. ফয়সাল (২৫) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোই হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনে চলন্ত রিকশায় থাকা শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন। হাদির ওপর হামলাকারী ফয়সাল করিম একসময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর এলাকার নেতা ছিলেন এবং তিনি হাদির নির্বাচনী প্রচারণায়ও কিছুদিন যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।