পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

24 Live Newspaper

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত নতুন সরকারি মালিকানাধীন ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সোমবারের চূড়ান্ত অনুমোদন ও লাইসেন্স ইস্যুর পর আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) থেকে ব্যাংকটির কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালু হয়।

কোলাজ ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে চলমান অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা কাটাতে এই বৃহৎ নতুন ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়া শুরু হবে। বড় অঙ্কের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য পৃথক রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

নতুন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বলেন, সরকারি মালিকানায় একটি ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়া জাতির জন্য সুসংবাদ। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক জাতির কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ব্যাংকের কার্যক্রম সঠিকভাবে দাঁড় করাতে একটি কারিগরি টিম কাজ শুরু করেছে। ব্যাংকের ভিশন-মিশন নির্ধারণ, আইন-কানুন পুনর্মূল্যায়ন এবং পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে।

গত রবিবার গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে নতুন ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স হস্তান্তর করে।

মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে স্থাপিত প্রধান কার্যালয় থেকে আজ দুপুরেই ব্যাংকের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ব্যাংকের চেয়ারম্যান জানান, আইনগত কাঠামো ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে সুসংহত করা এখন প্রধান কাজ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সংবাদ সম্মেলনে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে- সরকারের অংশ: ২০ হাজার কোটি টাকা; আমানতকারীদের শেয়ার: ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এই বৃহৎ মূলধন কাঠামো ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং খাতে আস্থা ফিরে আনতে সহায়ক হবে।