- ২৪ ডেস্ক
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে করা দুর্নীতি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ৫ বছর, শেখ রেহানাকে ৭ বছর এবং টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি শেখ রেহানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, টিউলিপ সিদ্দিককেও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় অভিযুক্ত আরও ১৪ আসামিকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ১৩ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করে। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে টিউলিপ সিদ্দিক তার মা শেখ রেহানা, বোন আজমিনা সিদ্দিক ও ভাই রাদওয়ান মুজিবের নামে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেন। তারা প্রত্যেকেই ১০ কাঠা আয়তনের প্লট পেয়েছিলেন।
তবে এই সুনির্দিষ্ট মামলায় শুধু শেখ রেহানার প্লট প্রাপ্তির বিষয়টি উল্লেখ থাকায় আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিবকে আসামি করা হয়নি। দুদক জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি ১৪ আসামি হলেন—সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন। এছাড়া রাজউকের সাবেক চার সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন ও মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং রাজউকের সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম ও সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী মো. আনিছুর রহমান মিয়াকেও দণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে খুরশীদ আলম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হওয়ার পর সৃষ্ট সমালোচনার জেরে গত ১৪ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক।









