- ২৪ ডেস্ক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ এবং ‘বড় অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে এই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে এবং পরে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, সংস্কার কমিশনে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ এবং এতে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে এই সনদটি আজ আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।” তিনি বিশেষভাবে বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন। এর আগে, বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সনদে স্বাক্ষর করেন।
বিবিসি বাংলার সাথে সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে তার আরেকটা নিদর্শন দেখা গেল আজ; দেখা গেল যে জাতির প্রয়োজনে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সব দলগুলো এক হয়ে কাজ করতে পারে।”
তবে এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বিষয়টিকে একটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উল্লেখ করেন। ফখরুল বলেন, “আমাদের সাথে আলোচনায় তারা প্রায় সব ব্যাপারে পজিটিভ ছিল। যে ব্যাপারটাতে সমস্যা আছে সেটা আলোচনার মাধ্যমে… পরেও তারা এ ব্যাপারে আলোচনা করতে পারত। আমি মনে করি যে এটা তাদের বিচক্ষণতার অভাব হয়েছে, না হলে তারা অবশ্যই এটা সই করত আজকে।”
তবে তিনি এটিকে বিভক্তি হিসেবে দেখছেন না এবং আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “তারা ভুল বুঝতে পারবে এবং তারা সঠিক জায়গায় এসে পৌঁছাবে।” যেসব দল এখনো স্বাক্ষর করেনি, তারাও আলোচনার মাধ্যমে যুক্ত হতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যতে বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক রয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “এটা কখনো কোনো দেশেই, কোনো কালেই পিছু ছাড়বে না।” তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে এই সনদকে তিনি একটি ‘গ্রেট অ্যাচিভমেন্ট’ বলে মনে করেন এবং এর বাস্তবায়নের জন্য সামনে আরও আলোচনা হবে বলে জানান।









