খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
(২ ঘন্টা আগে) ১ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১:৫০ অপরাহ্ন

কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে পাঁচ দিন ধরে চলমান অবরোধ আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’। মঙ্গলবার রাত ৯টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয় সংগঠনটির মিডিয়া সেল। এদিকে ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই কিশোরীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের।
আইনশৃঙ্খলা উন্নতির ওপর বিবেচনায় চলমান ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। তিনি বলেন, ‘আপাতত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
ধর্ষণের প্রতিবাদে সংঘর্ষ ঘিরে এখন পর্যন্ত ৩ জন নিহত হয়েছেন। ১৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ২৮ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এদিকে সংঘাত সৃষ্টির পর জানা গেলো সেই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামতই মেলেনি।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি ডা. জয়া চাকমার নেতৃত্বে করা কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্টটিতে সব স্বাভাবিক রয়েছে। ডা. জয়া চাকমা ছাড়াও মেডিকেলের ওই রিপোর্টে স্বাক্ষর করেছেন ডা. মীর মোশাররফ হোসেন ও ডা. নাহিদ আক্তার।
খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনার মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনটি আমি হাতে পেয়েছি। এটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, ‘এ সহিংসতায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা মামলা করতে চাইলে আমরা মামলা নেব। কেউ মামলা করতে না চাইলে প্রয়োজনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। কোনো দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেয়া হবে না। বর্তমানে ১৪৪ ধারা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। নতুন করে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে অবরোধকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নতির ওপর নির্ভর করে ১৪৪ ধারাও প্রত্যাহার করা হবে। পরিবেশ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।’
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় প্রাইভেট পড়া শেষে ফেরার পথে কয়েকজন যুবক এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর সন্দেহভাজন হিসেবে শয়ন শীল (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও বিচারসহ ৮ দফা দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাকে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’।









