১৭ অক্টোবর স্বাক্ষর, রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে ‘জুলাই সনদের’ চূড়ান্ত ভাষ্য

24 Live Newspaper

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর চূড়ান্ত ভাষ্য পাঠানো হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে আগামী ১৭ অক্টোবর সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়।

জাতীয় ঐক্যমত কমিশন

এবার পাঠানো চূড়ান্ত ভাষ্যে সনদের পটভূমিতে বেশ কিছু ভাষাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন, ১৯৭৮ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা আগে ১৯৭৬ সাল ছিল। এছাড়া, ২০০৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনায় ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে লগি-বৈঠা তাণ্ডব’ এবং ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ‘১/১১ সরকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা ‘এক হাজারের’ পরিবর্তে ‘সহস্রাধিক’ এবং সাবেক শাসককে ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। প্রায় ৩ হাজার অতিথিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি দুই পর্বে বিভক্ত থাকবে; মাগরিবের নামাজের আগে সনদ স্বাক্ষর এবং নামাজের বিরতির পর সনদের পটভূমির ওপর একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন। একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

উল্লেখ্য, ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই ধাপের সংলাপের পর এই সনদটি তৈরি করা হয়। তবে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত কোনো সুপারিশ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর এটি আলাদাভাবে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।

এদিকে, সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে এখনও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে গণভোটের সময় নির্ধারণ নিয়ে বিএনপি ও তাদের শরিকরা জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের পক্ষে, অন্যদিকে জামায়াতসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই মতপার্থক্য নিরসনে আলোচনা চললেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সব দলের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ পাঠানো হয়েছে। আগামী শুক্রবার ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। আমরা আশা করছি, সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে উপনীত হতে পারবো’।