হিরো আলমকে নিয়ে বিদেশিদের বিবৃতি অগ্রহণযোগ্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

logo

কূটনৈতিক রিপোর্টার

(১২ ঘন্টা আগে) ১৯ জুলাই ২০২৩, বুধবার, ৯:১৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:০০ পূর্বাহ্ন

mzamin

facebook sharing button

ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে ১২ দূতাবাসের বিবৃতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এটাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। বুধবার বিকালে মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মন্ত্রী বলেন, আমি অ্যাক্টিভিস্ট ডিপ্লোম্যাটদের সম্পর্কে বলতে চাই- আমেরিকায় যখন-তখন লোক মেরে ফেলে, তখন কি তারা বিবৃতি দেয়, জাতিসংঘ কি বিবৃতি দিয়েছে? তারা কি বলেছে যে, আমেরিকাতে লোক মারা যায় কেন?

ক্যামব্রিজে ফয়সাল নামে একজন বাংলাদেশি ছেলে মারা গেলো। জাতিসংঘ কি বলেছে- ওই ছেলের মৃত্যুর তদন্ত কতদূর এগুলো? কিংবা রাষ্ট্রদূতরা কি দলবেঁধে কোনও বিবৃতি দিয়েছে? আপনারা কেন তাদের জিজ্ঞাসা করেন না? যখন তাদের দেশে লোক মারা যায়- তখন কেন বিবৃতি দেয় না।

মন্ত্রী বলেন, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। কেন মারলো সেটি তদন্ত করে দেখতে হবে। এমন হতে পারে সেটিতে কেউ জড়িত ছিল, যা আমরা জানি না। হয়তো আমাদের নির্বাচনে অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য কেউ এটি করিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, হয়তো কেউ আমাদের আগামী নির্বাচন চায় না। একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য, বানচাল করার জন্য অকাম-কুকাম শুরু করছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমেরিকাতে যখন-তখন লোক মারে। এগুলো নিয়ে কখনও প্রশ্ন করেছেন? কেন নয়? আপনাদের প্রশ্ন করা উচিত। আপনাদেরও এসব বিষয়ে সজাগ হওয়া উচিত।

শুধু আমার দেশে হলেই হইচই শুরু করে দেন। তিনি বলেন, অন্য কোনও দেশে হইচই করে কেউ? আমাকে একটি রিপোর্ট দেন- সেখানে একজন লোক মারা যাওয়ার পরে একটি বিবৃতি তারা দিয়েছে। কিছু দিন আগে ফ্রান্সে কতগুলো লোক আক্রান্ত হলো। ওরা কি দলবেঁধে বিবৃতি দিয়েছিল? কাজেই কেন শুধু বাংলাদেশ হলে তারা বিবৃতি দেয়। এখন সময় এসেছে ওইসব বিবৃতি বন্ধ করার। তারা আমাদের কাছে বিবৃতি না দিয়ে আপনাদের কাছে দেয়। এটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি জানান। 

তিনি বলেন, এই যে আমেরিকানরা এলো- আপনারা দুনিয়া খেয়ে ফেলেছেন। আমেরিকান আসছে কেন? সম্পর্কের উন্নতি করতে চান বলে প্রেসিডেন্ট বাইডেন একটির পর একটি দল পাঠাচ্ছেন। আর আপনারা সেখানে খালি সন্দেহ খোঁজেন। আমার সঙ্গে ব্লিঙ্কেন সাহেবের বৈঠক হয়েছে- কীভাবে সম্পর্ক উন্নয়ন করা যায়, অন্য কোনও বিষয় নয়। বিদেশ থেকে কেউ এলে আপনারা খালি ষড়যন্ত্র শুরু করেন-এটি বন্ধ করেন।

উল্লেখ্য, হিরো আলমের ওপর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১২ দূতাবাস যৌথভাবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বুধবার সকালে। মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা ১৭ই জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী আশরাফুল আলমের (যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত) ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতার কোনো স্থান নেই। আমরা পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের জবাবদিহিতার দাবি জানাই। আসন্ন নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয় সেজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। দূতাবাস ও হাইকমিশনসমূহ হলো- কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।