- ২৪ ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সিস্টেমে জালিয়াতির মাধ্যমে এক গ্রাহকের ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। অন্যের সঞ্চয়পত্র মেয়াদপূর্তির আগেই ভাঙিয়ে সেই অর্থ নিজেদের ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে। চক্রটি আরও প্রায় ৫০ লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপে তা ব্যর্থ হয়।

এ ঘটনায় সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার একজন গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় থেকে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনেন, যার বিপরীতে তার ব্যাংক হিসাব ছিল অগ্রণী ব্যাংকের জাতীয় প্রেসক্লাব শাখায়। কিন্তু মাত্র চার দিনের মাথায় সোমবার সেই সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়ে টাকা স্থানান্তর করা হয় এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুর উপশাখার একটি অচেনা ব্যক্তির হিসাবে। পরে রাজধানীর শ্যামলী শাখা থেকে ওই টাকা তুলে নেওয়া হয়। একই প্রক্রিয়ায় ওই দিন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৩০ লাখ এবং এনআরবি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর চেষ্টা করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সাধারণত, সঞ্চয়পত্র কেনার সময় দেওয়া ব্যাংক হিসেবেই মেয়াদ শেষে মূলধন ও মুনাফা জমা হয়। তথ্য পরিবর্তন বা ভাঙানোর জন্য গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে হয় এবং তার মোবাইলে পাঠানো ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) উপস্থিত থেকে প্রদান করতে হয়। কিন্তু এই জালিয়াতির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিনজন সঞ্চয়পত্র ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছে যে, তারা সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর আবেদন করেননি এবং কোনো ওটিপিও পাননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বুধবার সাংবাদিকদের জানান, যাদের হিসাবে অর্থ গেছে এবং যারা জালিয়াতিতে জড়িত, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সঞ্চয়পত্র সিস্টেম পরিচালনাকারীদের কারও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই এই জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ের যেসব কর্মকর্তার কাছে সিস্টেমের পাসওয়ার্ড ছিল, তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা নজরদারিতে রয়েছেন।
এদিকে, জালিয়াতির প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় নির্ধারণে অর্থ মন্ত্রণালয় ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিনকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক, সিআইডির একজন উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের একজন যুগ্মসচিবকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, এনআরবিসি ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলম খান জানিয়েছেন, ঘটনাটি জানার পর ব্যাংকের পক্ষ থেকেও একজন ডিএমডির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গ্রাহকদের মোট সঞ্চয়পত্রের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭১ কোটি টাকা, যা প্রায় ১২ হাজার শাখার মাধ্যমে বিক্রি ও নগদায়ন করা হয়।









