যমুনায় জরুরি বৈঠক: নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার ঘোষণা

24 Live Newspaper

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যত বাধাই আসুক, জনগণের সম্মিলিত শক্তি দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে তিনি গণতন্ত্রের অভিযাত্রার ওপর পরিকল্পিত আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে সরকারের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘পরাজিত শক্তি দেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তবে আমরা এই অপশক্তির আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেব না।’

শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বৈঠকে হালনাগাদ তথ্য দেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা-৮ আসনের এই সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের ইচ্ছায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানান।

হামলাকারী ও এর পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যে করেই হোক, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’ একইসঙ্গে হামলাকারীরা যাতে কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সেজন্য সীমান্তে তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন, তারা বর্তমানে হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তাই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে খুব শীঘ্রই তিনি প্রধান প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হামলার স্থানের সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের সম্ভাব্য লুকানোর স্থানগুলোতে অভিযান জোরদার করা হবে। এছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।