বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশনের মৌখিক বিবৃতি

২০২৪ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন (এফআইডিএইচ) বাংলাদেশের বিষয়ে সার্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার  (ইউপিআর)  দাবি  জানিয়ে জাতিসংঘের (ইউএন) মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৫তম অধিবেশন চলাকালীন একটি বিবৃতি প্রদান করে। বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের  জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন, মৃত্যুদণ্ড এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়মুক্তি, সেইসাথে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা এবং এলজিবিটিআইকিউ জনগণের অধিকার সহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলিকে মোকাবেলা করতে অস্বীকৃতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা   দীর্ঘস্থায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলি মোকাবেলায় সরকারকে চাপ দেয়ার জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন (এফআইডিএইচ)  বাংলাদেশে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের অনেক সদস্য রাষ্ট্রের  উদ্বেগকে বৈধতা দেয়ার পাশাপাশি এবিষয়ে  অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের একজন সদস্য  হয়েও বাংলাদেশ সরকারের এহেন  আচরণ অশোভনীয়।  মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সুশীল সমাজের ওপর দমনপীড়ন সার্বজনীন পর্যালোচনার দাবি রাখে।সরকার আবারও বলপূর্বক গুমের ঘটনা অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি  বলপূর্বক গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে কনভেনশনের  প্রটোকলের  সমস্ত সুপারিশ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। উপরন্তু, সরকার মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত সমস্ত সুপারিশ গ্রহণ করেনি, তারা  বিস্ময়করভাবে মৃত্যুদণ্ডকে ‘শাস্তির একটি বৈধ রূপ’ হিসাবে বর্ণনা করেছে।

লিঙ্গ সমতার বিষয়ে, সরকার সমস্ত সুপারিশ গ্রহণ করেনি। সুপারিশে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার  আহ্বান জানানো হয়েছিল।  নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত কনভেনশনের ধারা ২ এবং ১৬ থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ সরকার। পাশাপাশি সরকার  এলজিবিটিআইকিউ জনগণের অধিকার সম্পর্কিত সমস্ত সুপারিশ গ্রহণ করতেও অস্বীকার করেছে, যা এটিকে  ‘একটি ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নৈতিক সমস্যা’ হিসাবে গুরুত্ব দেয়।

সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের  সুপারিশ গ্রহণ করার পরেও দেশের জাতীয় নির্বাচন উপহাসে পরিণত হয়েছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সরকারের রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর  দমন-পীড়ন এবং সুশীল সমাজের উপর  আক্রমণের কারণে বিঘ্নিত হয়েছিল। এটাও উপহাসের বিষয় যে, সরকার সুশীল সমাজের কর্মী, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক থেকে রক্ষা করার সুপারিশ গ্রহণ করেও  সব ধরনের ভিন্নমতকে নীরব করার জন্য বিচার ব্যবস্থাকে  ব্যবহার করে চলেছে। প্রবাসে ভিন্নমতাবলম্বীদের ভয় দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশে  মানবাধিকার রক্ষাকারীদের অপরাধীর তকমা দেয়া হচ্ছে। আমরা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘন, দায়মুক্তির অবসান, জবাবদিহিতা, ক্ষতিপূরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানাই।

mzamin