- ২৪ ডেস্ক
বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বৃহৎ ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ২০০৮ সালের পর এটি হবে বাংলাদেশে ইইউর প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
রাষ্ট্রদূত মিলার জানান, ইইউর এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে ১৫০ থেকে ২০০ জন সদস্য থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে একটি অংশ ভোটের প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে এবং বাকিরা ভোটের এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। এছাড়া, ভোটের সময় স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগেও ইইউ সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ সাংবিধানিক সংস্কার, নির্বাচনের প্রস্তুতি, বিচার বিভাগ ও শ্রম খাতের সংস্কার এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি এবং বিমান ও নৌ পরিবহন খাতে নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়েও তারা একমত হন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনালের উন্নয়ন ও পরিচালনায় বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি এ.পি. মোলার-মায়েরস্কের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ডেনমার্কের এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে লালদিয়াকে এ অঞ্চলের অন্যতম আধুনিক টার্মিনালে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে।
বৈঠকে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পায়।









