Site icon The Bangladesh Chronicle

দেশজুড়ে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ আগুন, নিভল ৩ প্রাণ

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর তিন দিনের অবরোধের প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই বিএনপির নেতাকর্মী। নারায়ণগঞ্জে তিন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করেছে অবরোধকারীরা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেও সংঘর্ষ হয়েছে কয়েক জায়গায়। অন্তত ১৪টি যানবাহনে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে অবরোধ সমর্থকরা সড়ক বন্ধের চেষ্টায় মিছিল-পিকেটিং করে। রাজধানীর মতো সারাদেশেই গতকাল সড়কে যানবাহনের চলাচল ছিল কম। দূরপাল্লার বাস চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। যাত্রীও ছিল কম। লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে ট্রেনে যাত্রী ছিল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেক।

কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর প্রতিনিধি জানান, গতকাল কুলিয়ারচরে পুলিশের গুলিতে ছয়সূতী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ তনয় নিহত হয়েছেন। নিহত আরেক নেতা ইউনিয়ন কৃষক দল সভাপতি বিল্লাল হোসেনের (৪০) গলায় কাটা দাগ দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ। তিনি জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাবলু সূত্রধর দুই নিহত ব্যক্তির সুরতহাল করেছেন। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দু’জনই পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল আহ্বান করেছে বিএনপি।

সংঘর্ষের পর কুলিয়ারচর ও ভৈরবে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, অবরোধকারীরা রাস্তা না আটকে ছয়সূতী বাজারে এসে পুলিশের ওপর হামলা করে। কুলিয়ারচর থানার ওসি গোলাম মোস্তফাসহ ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। হামলা ঠেকাতে পুলিশ রাইফেল, শটগান ও টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করেছে। রেফায়েত উল্লাহ চায়নিজ রাইফেলের গুলিতে মারা গেছেন বলে পুলিশ সুপারের ধারণা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ঢাকা সড়ক অবরোধ করেন বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর পর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর সংঘর্ষ হয়। রেফায়েত উল্লাহ ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বিল্লাল হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিশোরগঞ্জ শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংঘর্ষে বিএনপিরও ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। ছয়সূতী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি জাহের মিয়া বলেন, তারা মিছিল করছিলেন। পুলিশ অতর্কিতে গুলি ছোড়ে। একই কথা বলেছেন কুলিয়ারচর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শাহ আলম।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন স্থানীয় মাধবদী বাজারে পান বিক্রি করতেন। রেফায়েত উল্লাহ অটোরিকশার চালক ছিলেন। বিল্লালের মা নাজমা খাতুন বলেন, আমার ছেলেকে পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলেছে। সড়কে পড়ে থাকা ছেলেকে জড়িয়ে ধরলে পুলিশ ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।

সিলেট ব্যুরো জানায়, পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে পিকেটিং করেন বিএনপির নেতাকর্মী। পুলিশ দেখে মোটরসাইকেলে পালাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কায় মারা গেছেন দিলু আহমদ জিলু (৪০) নামে যুবদলের এক স্থানীয় নেতা।

তবে জিলুকে পুলিশ গাড়িচাপা দিয়ে মেরেছে বলে অভিযোগ করে বিকেলে বিক্ষোভ করেছে যুবদল। সিলেট মহানগর যুবদল সভাপতি মির্জা সম্রাট জানান, জিলু হত্যার প্রতিবাদে আজ বুধবার সিলেট বিভাগে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছেন তারা। হরতালে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। জিলুর বড় ভাই ভুলু আহমদ সমকালকে জানিয়েছেন, তাঁর ভাই গাছের সঙ্গে ধাক্কায় মারা গেছেন।

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল করে পাঁচরুখি বাজার এলাকায়; গাছের গুঁড়ি, আরসিসি খুঁটি ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ বাধা দিলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে অবরোধকারী নেতাকর্মী। এক পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মী একজোট হয়ে ধাওয়া দিয়ে তিন পুলিশ সদস্যকে ধরে ফেলেন।

আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মোল্লা, সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল মতিন ও কনস্টেবল মো. নুরুলকে বেধড়ক মারধর করে অবরোধকারীরা। সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন জানান, নুরুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে। পরিদর্শক হুমায়ুন কবিরের ডান হাত কুপিয়ে জখমের পর পিটিয়ে বাঁ হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নুরুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং হুমায়ুন কবিরকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সকাল ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঢাকা-নরসিংদী রুটের অন্তত তিনটি বাস ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। পরে র‍্যাব, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ জানান, অবরোধের পিকেটিংয়ে বিনা উস্কানিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও গুলি ছোড়ে। আড়াইহাজার থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানান, সংঘর্ষস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

রাজধানীতে বাসে আগুন

গতকাল ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থায় ছিল। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যদের টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যেও ঢাকায় চারটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও কয়েক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কদমতলীতে বোরাক পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। কদমতলী থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, দুর্বৃত্তরা বাসে আগুন দিয়ে পালিয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাইকোর্টের সামনে কদম ফোয়ারার পাশে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়। তিন-চারজন যাত্রীবেশে বাসে উঠে আগুন লাগিয়ে নেমে যায়। বাসটির হেলপার ওয়াজেদ আহমেদ বলেন, বাসটি গুলিস্তান থেকে আশুলিয়া রুটে চলাচল করে। গতকাল পল্টনের মোড় থেকে কয়েকজন যাত্রী ওঠে। তাদের মধ্যে কদম ফোয়ারার সামনে এসে গাড়ি থামতে বলে তিন-চারজন নেমে যায়। এর পরই গাড়িতে আগুন জ্বলতে থাকে। সে সময় বাসে ১৫-২০ জন যাত্রী ছিলেন।

ঘটনাস্থলে চালক ও হেলপার সংবাদকর্মী এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন এক তরুণ ছুটে এসে বলেন, যে দুই-তিনজন কদম ফোয়ারার সামনে বাস থেকে নেমে পালিয়েছে, তাদের তিনি চেনেন। তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন ওই তরুণ। তবে তার পোশাক ও কথাবার্তায় স্বাভাবিক মনে হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বাসে আগুনের খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। তবে এর আগেই বাসটি পুড়ে যায়। এদিকে, গতকাল রাতে বাসাবো ও মধ্যবাড্ডায় আরও দুটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

সকাল ৯টার দিকে ডেমরা থানাধীন মাতুয়াইলের মিন্টু চত্বর এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী মিছিল করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে পুলিশ ৩২ জনকে আটক করে।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে টিকাটুলীতে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তিন-চারজন তরুণ পালিয়ে যায়। প্রায় একই সময় পল্টনের বিজয়নগরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। অবরোধের সমর্থনে সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোড থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি প্রমুখ।

খিলগাঁও, বিজয়নগর ও বাংলামটরে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল। এ ছাড়া অন্তত ২৮টি স্থানে ঝটিকা মিছিল-পিকেটিং করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো। উত্তরায় মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের নেতৃত্বে কিছু সময়ের জন্য রেলপথ অবরোধ করে দলটি। তেজগাঁওয়ে একই কর্মসূচি করে জামায়াত।

রাজধানীর তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার সামনে থেকে মিছিল বের করে গণতন্ত্র মঞ্চ। তবে কিছুদূর যাওয়ার পর পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এতে অংশ নেন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় মিছিল করেছে ১২ দলীয় জোট। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ। গণফোরাম ও পিপলস পার্টির যৌথ উদ্যোগে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে রাজধানীর আরামবাগে মিছিল হয়। বাংলামটর মোড় থেকে মগবাজার পর্যন্ত মিছিল করে গণঅধিকার পরিষদ (নুর)। ড. রেজা কিবরিয়া ও ফারুক হাসানের নেতৃত্বে মিছিল করেছে গণঅধিকার পরিষদের অপরাংশ। এ ছাড়া লেবার পার্টি, এনডিএম, এবি পার্টিসহ অন্যান্য দলের নেতৃত্বেও পৃথক মিছিল হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরাঞ্চল ও বগুড়া ব্যুরো জানায়, মঙ্গলবার বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়কে লাঠিসোটা হাতে অবস্থান নেন অবরোধ সমর্থকরা। গাড়ি ভাঙচুর, পোড়ানো ও বিক্ষোভকালে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণে ভীতি তৈরি হয়। পুলিশ শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে অবরোধ সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল থেকে জেলার মহাসড়কে কমপক্ষে ১০-১২টি বাস-ট্রাক ভাঙচুর, একটি কাভার্ডভ্যানসহ তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ থেকে জানিয়েছেন, অবরোধের সমর্থনে বিক্ষিপ্ত মিছিল হয়েছে কয়েক জায়গায়। সড়কে লাঠি হাতে মহড়া দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ছিল পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের পাহারা। সকাল পৌনে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় মিছিল বের করে মহানগর বিএনপি। কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে মিছিলটি বের হয়। অবরোধের সমর্থনে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রিজ মোড় রেলক্রসিং পর্যন্ত গেলে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। ওই সময় বিএনপি নেতাদের ধাওয়া দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন রাস্তার পাশে থাকা বিআরটিসি বাসসহ কয়েকটি যানবাহনের গ্লাস ভাঙচুর করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

অন্যান্য এলাকার চিত্র

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে ইলিশ পরিবহন নামে এক যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঢাকার অদূরে পূর্বাচল উপশহর এলাকার ৩০০ ফুট সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেছে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী।

চট্টগ্রামে যানবাহনে আগুন ও ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল ভোররাত ও সকালে নগরের বায়েজিদ ও ইপিজেড এলাকায় দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। অবরোধের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল থেকে বিএনপির ১৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যাত্রী সংকট ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় দিনভর দূরপাল্লার কোনো বাস ছাড়েনি চট্টগ্রাম থেকে।

খুলনায় গতকাল সকালে মিছিল থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান লিটন এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল জমাদ্দারকে আটক করেছে পুলিশ।

সমকাল
Exit mobile version