- ২৪ ডেস্ক
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ের অন্যতম সাহসী কণ্ঠস্বর এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তার এই মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাদির অকাল প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ৩১ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান শোক প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি শরিফ ওসমান হাদির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে গভীরভাবে শোকাহত। আল্লাহ যেন তার রুহের মাগফিরাত দান করেন। তার এই অকাল শহীদি মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিলো— রাজনৈতিক সহিংসতা কত বড় মানবিক মূল্য দাবি করে।’
শোকবার্তায় হাদির অবদানের কথা স্মরণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, হাদি ছিলেন একজন সাহসী রাজনৈতিক কর্মী ও নির্ভীক কণ্ঠস্বর। তিনি সর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি জুলাইয়ের যোদ্ধাদের অধিকার রক্ষা, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংস ঘটনা যেন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ এবং ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক ফাতিমা তাসনিম।









